শুরু হয়েছে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। আর এবার ভারতের হয়ে প্রথম পদক দিয়ে নজির গড়েছেন বিহারের নালন্দা জেলার ঝান্ডু কুমার। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন ঝান্ডু। তবে এই পদকের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক অসাধারণ কাহিনি।
Jhandu Kumar CWG: দরিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই চলা
বিহারের নালন্দা জেলার হারনৌত বাজারের বাসিন্দা ঝান্ডু কুমার অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান ভরসা ছিল একটি সবজির দোকান। কিন্তু করোনা মহামারির সময় সেই ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতি হলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন ঝান্ডু। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ই-রিকশা চালাতে শুরু করেন। এর মাঝেও তিনি নিজের স্বপ্নকে কখনও বিসর্জন দেননি।
কঠোর পরিশ্রমেই মিলল সাফল্য
জীবিকার তাগিদে রিকশা চালানোর পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনও চালিয়ে গিয়েছিলেন ঝান্ডু। দিন-রাত দুবেলাই তিনি কঠোর প্রশিক্ষণ করতেন তিনি। কাজ আর প্র্যাকটিস দুই দিক বজায় রেখেই ধীরে ধীরে জাতীয় স্তরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। অবশেষে তাঁর সেই নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি মেলে ভারতের কমনওয়েলথ গেমস দলে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে। আর গ্লাসগোতে সেই সুযোগকেই সাফল্যের হাসি। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের প্রথম পদকজয়ী হিসেবে নাম লেখান তিনি।
🇮🇳 BRONZE! 🥉
— Team India (@WeAreTeamIndia) July 24, 2026
The first medal is on the board for #TeamIndia! 🇮🇳
A phenomenal performance by Jhandu Kumar in the Men’s Para Powerlifting Heavyweight event earns us our first Bronze Medal. 💪🥉
A proud start to the campaign—and here’s to many more podium finishes in the days… pic.twitter.com/Wvualfts0W
অনুপ্রেরণার নতুন নাম ঝান্ডু
ঝান্ডু কুমারের এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্নপূরণের এক অনন্য উদাহরণ। সবজি বিক্রেতার ছেলে, কঠিন পরিস্থিতিতে ই-রিকশা চালিয়ে সংসার সামলানো এক যুবক থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে দেশের হয়ে পদক জয়—এই যাত্রা আজ অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদের কাছে এক অনুপ্রেরণা। (Jhandu Kumar CWG)
ঝান্ডু কুমারের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাস থাকলে কোনও কিছুই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাঁর এই পদক জয় শুধু ভারতের নয়, গোটা বিহারের কাছেও এক গর্বের মুহূর্ত ।










