লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার প্রায় ২০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পরে স্পিকারের হাতে দুইটি চিঠি তুলে দেন তৃণমূল সাংসদ।
Abhishek Banerjee: চিঠিতে কী লিখলেন?
চিঠিতে দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ দ্রুত খারিজ করার আর্জি জানানো হয় । পাশাপাশি, তাঁদের জন্য বরাদ্দ আসনও প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন অভিষেক। প্রথম চিঠিতে অভিষেক উল্লেখ করেন, সংবিধানের দশম তফসিল এবং ‘লোকসভার সদস্য (দলত্যাগের কারণে অযোগ্যতা) বিধি, ১৯৮৫’-এর আওতায় গত ১৯ জুন সদস্যপদ বাতিলের যে ২০টি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। এ বিষয়ে কোনও নোটিশ জারি করা হয়নি ৷ শুনানির দিন ধার্য করা হয়নি কিংবা কোনও পদ্ধতিগত নির্দেশও দেওয়া হয়নি ।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, আবেদন জমা দেওয়ার পর পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনও নোটিশ জারি করা হয়নি, শুনানির দিন ঠিক করা হয়নি এবং কোনও পদ্ধতিগত নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। এমন দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
তিনি জানান, আবেদনগুলি TMC-র প্রতীকে নির্বাচিত সেই ২০ জন সাংসদকে নিয়ে, যারা নিজেদের ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সঙ্গে যুক্ত করেছেন—যা একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক সংগঠন এবং যার সংসদে বা কোনও রাজ্যের বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই ।
তিনি বলেন, “সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া অহেতুক দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকলে তা দশম তফশিলের সাংবিধানিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে ৷ এমন এক অনিশ্চয়তা জিইয়ে রাখে যা সংবিধান এড়াতে চায় এবং দলত্যাগবিরোধী আইনে থাকা সুরক্ষাকবচগুলোকে অকার্যকর করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে।”
আরেকটি চিঠিতে অভিষেক লোকসভা সচিবালয়ের ১৮ জুলাইয়ের সেই সার্কুলারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান, যার মাধ্যমে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের ডিভিশন ও আসন নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনি জানান, একই দিনে জারি করা আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে টিএমসি-কে ২৮ জন সাংসদবিশিষ্ট একটি একক সংসদীয় দল হিসেবে এবং তাঁকে সেই দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে ।
তিনি জানান, এআইটিসি (AITC)-কে ২৮ জন সাংসদের একটি একক গোষ্ঠী হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া এবং দলত্যাগকারী গোষ্ঠীর একতরফা অনুরোধের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস ও বিভাজন নম্বর পরিবর্তন করা অন্যায্য । অভিষেকের দাবি, এখনই সেই আসনবদলের ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক ।








