দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু শক্তিশালী হওয়ায় দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এতেই বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের ওপর তৈরি হয়েছে একটি গভীর নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপের দরুণ বর্ষা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। অগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশ জুড়ে বজায় থাকবে বর্ষা (monsoon)।
monsoon: ঘাটতি কমার মূল কারণ কী?
গভীর নিম্নচাপের প্রভাব: আবহবিদেরা বলছেন, মহারাষ্ট্রের ওপর একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বর্ষা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। মনসুন ট্রাফ অর্থাৎ মৌসুমী বায়ুর অক্ষরেখার উপর এই গভীর নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে। ফলে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে সাহায্য করছে (monsoon)।
সোমালি জেট (Somali Jet): ভারত মহাসাগরের এই তীব্র বায়ু আরব সাগর হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে রেকর্ড পরিমাণে আর্দ্রতা বয়ে আনছে। যা বৃষ্টিপাত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
জুলাইয়ের রেকর্ড রিকভারি: জুনের শুরুতে দেশব্যাপী বৃষ্টির ঘাটতি যেখানে ৪০% ছিল, জুলাইয়ের সক্রিয় স্পেলের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৪-১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
অগস্ট মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
অগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহ (First Half) পর্যন্ত বর্ষা কমার কোনও লক্ষণ নেই। দেশের ২২টি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত কেমন হবে, তা মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো (El Nino) এবং ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল (IOD)-এর শক্তির ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে সামগ্রিক ঘাটতি কমলেও বৃষ্টির বণ্টন সব জায়গায় সমান নয়। অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ এই অঞ্চলে এখনও প্রায় ৩০% বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। যদিও অসমের কিছু জায়গায় তীব্র বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতেও মৌসুমী বায়ুর ঘাটতি প্রায় ২৯%। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাতের মতো রাজ্যগুলোতে জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
টানা বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভারতের ১৬৬টি প্রধান জলাধারের (Reservoirs) জলস্তর এখনও গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬% কম এবং স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে নিচে রয়েছে।









