রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল বিজেপি সরকার। উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী দিনে এমন একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে যেখানে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব বা তোষণের জায়গা থাকবে না। তাঁর কথায়, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হবে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া, কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া নয়।
বুধবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু শব্দ ও বিষয়বস্তু যোগ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল। সেই কারণেই বর্তমান সরকার পুরো পাঠ্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (School Syllabus)
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষাকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। তাঁর মতে, স্কুলের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে পড়াশোনার উপরই জোর থাকবে, কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সিলেবাসকে আবার আসমান থেকে আকাশে, নাস্তা থেকে জলখাবারে এবং রংধনু থেকে রামধনুতে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একসময় প্রাথমিক স্তরে ‘বর্ণ পরিচয়’ ও ‘সহজ পাঠ’-এর মতো বাংলা ভাষার ঐতিহ্যবাহী বইগুলির গুরুত্ব কমিয়ে ‘আমার বই’ ও ‘আমার পরিবেশ’-এর মতো নতুন বই চালু করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই বইগুলিতে এমন কিছু বিষয় ও চরিত্র রাখা হয়েছিল যা তোষণের রাজনীতিকে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আবার বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী পাঠ্যবইগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সপ্তাহে একদিন মন্ত্রী-বিধায়ক বাধ্যতামূলক বৈঠক, উন্নয়নের গতি বাড়াতে নয়া উদ্যোগ
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সিলেবাস তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করছে। ভাষা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান-সহ একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। যদিও ঠিক কী কী বদল হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। (School Syllabus)
মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, শিক্ষাকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে রাখা উচিত। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তাদের উদ্দেশ্য একটাই—শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আরও স্বচ্ছ ও উন্নতমনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।











