ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি আমাদের সকলের কাছে ‘জন্মাষ্টমী’ বলেই পরিচিত। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে প্রতি বছরই ভক্তদের মধ্যে থাকে আলাদা উৎসাহ। বাড়িতে বাড়িতে নাড়ু গোপালের পুজো, ভোগ রান্না-সব মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। চলতি বছরের পঞ্জিকা অনুযায়ী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনই জন্মাষ্টমী তিথি পড়েছে। সাধারণত জন্মাষ্টমী একদিনেই পালিত হলেও এ বছর তিথির অবস্থানের কারণে দু’দিন ধরে এই বিশেষ তিথি থাকছে।
শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ উদযাপনের ক্ষেত্রে রাতের সময়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ‘নিশীথ কাল’, অর্থাৎ মধ্যরাতের সময়েই কৃষ্ণের জন্মলীলার স্মরণ করে পুজো করার রীতি রয়েছে। তবে গৃহস্থবাড়ির পুজো এবং মন্দিরের পুজোর নিয়মে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। (Janmashtami)
জন্মাষ্টমীতে নাড়ু গোপালের পুজোরও রয়েছে বিশেষ কিছু নিয়ম। ছোট্ট কৃষ্ণের মিষ্টি মুখ, মাখন চুরির গল্প এবং তাঁর নানা বাল্যলীলার কথা মনে করেই ভক্তরা এই দিনে বিশেষ ভোগ নিবেদন করেন। তবে পুজোর সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেলে চলবে না।
ভোগে তুলসী পাতা দিতে ভুলবেন না
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের পুজোয় তুলসী পাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই নাড়ু গোপালের জন্য মাখন-মিছরি, পঞ্চামৃত বা অন্য কোনও ভোগ তৈরি করলে তাতে তুলসী পাতা দেওয়ার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী ছাড়া কৃষ্ণের ভোগ সম্পূর্ণ হয় না। তাই ভোগ সাজানোর সময় অবশ্যই পরিষ্কার তুলসী পাতা ব্যবহার করুন। বিশেষ করে মাখন-মিছরি কিংবা পঞ্চামৃত নিবেদনের সময় তুলসী পাতা দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
শিবলিঙ্গের মাথায় শুধু জল ঢাললেই নয়, শ্রাবণে এই ৩ নাম স্মরণে মিলতে পারে আশীর্বাদ
কীভাবে তৈরি করবেন পঞ্চামৃত?
জন্মাষ্টমীতে নাড়ু গোপালকে পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করানোর রীতিও রয়েছে। দুধ, দই, ঘি, মধু এবং গঙ্গাজল—এই পাঁচটি উপাদান মিশিয়ে সাধারণত পঞ্চামৃত তৈরি করা হয়। কৃষ্ণের অভিষেকের সময় পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
Janmashtami: উপোস করলে কখন ভাঙবেন?
জন্মাষ্টমীতে অনেক ভক্তই দিনভর উপোস করেন। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে উপোস করলে কখন ব্রত ভাঙা হবে, তা নির্ভর করে জন্মাষ্টমীর তিথি এবং পঞ্জিকার নির্দিষ্ট সময়ের উপর। এবছরের সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর সকালে সূর্যোদয়ের পর নিয়ম মেনে ব্রত ভাঙা যাবে।
তবে জন্মাষ্টমী শুধু পুজো বা উপোসের দিন নয়, এটি ভক্তিরও দিন। তাই নিয়ম-কানুনের পাশাপাশি মন থেকে শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে ডাকলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তের ডাকে সাড়া দেন।












1 thought on “জন্মাষ্টমীতে প্রথমবার ব্রত পালন করবেন? নাড়ু গোপালের পুজোয় অবশ্যই মেনে চলুন এই বিশেষ নিয়ম”