শনিবার গভীর রাতে কলকাতার নর্থ পোর্ট থানা এলাকার পাথুরিয়াঘাটে হঠাৎ পরপর গুলির শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সন্তোষ চৌধুরীকে। অভিযোগ, এলাকা ফাঁকা হওয়ার পর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান তাঁরই ভায়রা ভাই কার্তিক শোনকার ওরফে খরগোশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সন্তোষ চৌধুরী। ঘটনাটি ঘটেছে নর্থ পোর্ট থানা এলাকার মণ্ডল স্ট্রিটে। অভিযুক্ত কার্তিক শোনকার ওরফে খরগোশ ঘটনার পর থেকেই পলাতক। (Kolkata Firing)
পাথুরিয়াঘাটে পরপর গুলি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ নর্থ পোর্ট থানা এলাকার পাথুরিয়াঘাটে আসে কার্তিক। সেখানে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর সন্তোষ চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় কার্তিক। সন্তোষের পেটে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর একটি স্কুটিতে চেপে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে হামলা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ চৌধুরী এবং কার্তিক শোনকার সম্পর্কে ভায়রা ভাই। কার্তিকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর গন্ডগোল চলছিল বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সেই পারিবারিক বিবাদের জেরেই ভায়রা ভাই সন্তোষের উপর হামলা চালানো হয়েছে। (Kolkata Firing)
কলকাতা মেডিক্যালে ভর্তি
গুলিবিদ্ধ সন্তোষকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর তদন্তে নেমেছে নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ। অভিযুক্ত কার্তিক শোনকারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কেন এই হামলা, গুলি চালানোর ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
AI দিয়ে ছবি বিকৃতির অভিযোগ
এর মধ্যেই সামনে এসেছে পরিবারের আরও একটি অভিযোগ। তাঁদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের এবং প্রতিবেশী মেয়েদের ছবি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ব্যবহার করছেন এক ব্যক্তি। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই ছবিগুলি বিকৃত করে আপত্তিকরভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি গালিগালাজও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। (Kolkata Firing)
পরিবারের দাবি, এ নিয়ে লালবাজার এবং স্থানীয় থানায় এফআইআর ও জেনারেল ডায়েরি করার চেষ্টা করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের কাছে অভিযোগের প্রমাণ ও নথি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের এক মহিলা সদস্য। (Kolkata Firing)
আরও পড়ুন :- মালদা মেডিক্যালে শিশু মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ, মৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণ











1 thought on “পারিবারিক বিবাদ, ‘খরগোশ’-এর গুলিতে আহত আত্মীয়”