ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। প্রতিটা মুহূর্ত কাটচ্ছিল অনিশ্চয়তায়। এক মূর্হুতের জন্য প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না সেই আতঙ্কই কাজ করছিল। নেপাল থেকে ফিরে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বৃদ্ধ দম্পতি। ঘুরতে গিয়ে যে এমন অভিজ্ঞতা হবে ভাবতেই পারেননি তাঁরা। তবে গাড়ি চালকের বুদ্ধিতেই যে তাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন সেকথা স্বীকার করলেন ওই দম্পতি। আজ, রবিবার ভোরে ট্রেনে করে হাওড়া স্টেশনে নামেন তাঁরা। স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট থানার আইসি সহ পুলিশের একটি টিম। তাঁরাই ওই দম্পতিকে গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে আসেন (nepal flash flood)।
nepal flash flood: কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন?
বসিরহাটের ওই দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও রেবা রায় পোদ্দার গত ২১ অগস্ট একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপালের মানস সরোবর দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টা দূরে ছিলেন তাঁরা। তাঁরা বলেন ওই ট্রাভেল এজেন্সির এটি গাড়িতে বাঙালি পরিবার ও আর একটি গাড়িতে দক্ষিণ ভারতের পরিবার ছিল। মোট ২২ জন ছিলেন। বিপর্যয়টি প্রথম গাড়ির চালক দেখতে পেয়েছিলেন। পাহাড়ের গা বেয়ে ধোঁয়ার মতো দ্রুত গতিতে জল নীচের দিকে নেমে আসছে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন। ততক্ষণে চালক পাহাড়ের গাড়ি পিছিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এরপরই ওই ট্রাভেল এজেন্সির তরফে চালককে ফোন করে বলা হয়, ইমিগ্রেশন অফিস যাওয়ার ব্রিজটি হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে। এরপরেই তাঁরা কাঠমান্ডুতে চলে আসেন (nepal flash flood)।
অনুকূল বাবু বলেন, “বিপদের সময় স্বয়ং ভগবান আমাদের হাত ধরে সেই বিপর্যস্ত জায়গা থেকে আমাদের নিয়ে এসে আবার পুনঃজীবন দিলেন। আমরা পরিবারের কাছে ফিরতে পারতাম কি না জানি না। ভগবান আমাদের পরিবারের কাছে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দিলেন, এইটাই আমাদের বড় পাওনা। গাড়ি চালক নিজেই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বললেন হড়পা বান আসছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব উৎসুক ছিলাম যে হড়পা বান কীভাবে আসে সেইটা দেখার। দূর থেকে মেঘের মতো একটা সাদা স্রোত ভেসে আসছিল। সেটা যে জলের স্রোত আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। কিন্তু আমাদের গাড়ি চালক বুঝতে পেরেছিলেন। তিনিই বললেন যেকোনও মুহূর্তে জল এখানে চলে আসতে পারে। উনিই তখন আমাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেলেন।”
ঘটনার পর গত শুক্রবার কাঠমাণ্ডু থেকে বীরগঞ্জে নেমে আসেন দম্পতি। রেবাদেবী বলেন, “ফিরে আসার জন্য ঈশ্বরকে প্রণাম জানাই। তার ইচ্ছেতেই ফিরে এসেছি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনিই আমাদের ফেরার জন্য ব্যবস্থা করেছিলেন। এই গ্রুপের সকলকে নিয়ে আমরা ফিরে এসেছি।”
বাড়ি ফিরেও সেই আতঙ্ক তাড়া করছে দম্পতিকে। নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। তবুও দুঃস্বপ্ন যেন কাটছে না। এখন তাঁরা চান যাঁরা এখনও নিখোঁজ তাঁরাও খুব শীঘ্রই তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরে আসুক।











