[ছবি: এক্স]
(Nepal Climate Compensation) ২৬ অগস্টের ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যা শুধু নেপালে প্রাণহানি ও বিপুল সম্পত্তির ক্ষতিই ঘটায়নি, সামনে এনেছে আরও বড় প্রশ্ন—হিমালয়ের জলবায়ু ঝুঁকির মূল্য কে দেবে? জলবায়ু পরিবর্তনে নেপালের অবদান অত্যন্ত কম হলেও তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে পাহাড়ি জনপথগুলি। তাই এবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থভান্ডার থেকে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে কাঠমান্ডু।
কতটা ক্ষতি হয়েছে?
(Nepal Climate Compensation) জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দ্রুত মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভোতেকোশি বন্যায় প্রায় ৩৮৬.১৬ বিলিয়ন নেপালি রুপির ক্ষতি হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে জরুরি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন প্রায় ৭.৯৬ বিলিয়ন রুপি। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব।
Nepal Climate Compensation: কোন তহবিলের দিকে তাকিয়ে নেপাল?
অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে এবং পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের বোর্ডের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। এই তহবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য তৈরি। তবে এটি এমন কোনও ব্যবস্থা নয়, যেখানে দুর্যোগের পুরো ক্ষতির বিল জমা দিলেই সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়।
দাবি আছে, কিন্তু প্রমাণ কতটা শক্ত?
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মধু রমন আচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, পর্যাপ্ত নথি, বিস্তারিত প্রস্তাব এবং দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক মূল্যায়ন ছাড়াই নেপাল আবেদন করেছে কি না। জলবায়ু অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ পেতে হলে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য, শক্তিশালী প্রমাণ এবং স্পষ্ট কূটনৈতিক কৌশল জরুরি। (Nepal Climate Compensation)
চিন-ভারত-আমেরিকাকে কি সরাসরি টাকা দিতে বলছে নেপাল?
প্রথমে বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের ‘aid নয়, ‘justice and compensation’ মন্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হলেও পরে অবস্থান স্পষ্ট করেছে কাঠমান্ডু। চিনা রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানানো হয়, কোনও নির্দিষ্ট দেশ—চিন, ভারত বা আমেরিকার কাছে—ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে না। বরং UNFCCC ও Paris Agreement-এর আওতায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
Nepal Climate Compensation: আইনি ভিত্তি কতটা শক্ত?
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক আদালতে নেপাল ঐতিহাসিক নির্গমন, উন্নত দেশগুলির দায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল। তবে ঐতিহাসিক দায়ের নীতি থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট দুর্যোগের ক্ষতিপূরণ পাওয়া এখনও অত্যন্ত জটিল।
নেপালের করণীয় কী?
(Nepal Climate Compensation) বিশেষজ্ঞরা ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক অর্থের উপর জোর দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ রাজু পণ্ডিত ছেত্রীর মতে, Loss and Damage Fund থেকে নেপাল প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে, যদিও ৫ বিলিয়ন রুপির মতো বড় অঙ্কের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। পাশাপাশি হিমবাহ ও নদী পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা, বিপদ-মানচিত্র, দুর্যোগ মডেলিং এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ জরুরি। ৮১তম রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শাহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল ভোতেকোশি বিপর্যয়, হিমালয়ের জলবায়ু ঝুঁকি এবং পুনর্গঠন-বাস্তুহারা মানুষের প্রয়োজনের বিষয়টি তুলবে।
বিধ্বংসী বন্যার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে ২১৬ ঘণ্টা, নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত ফিরলেন ২ শ্রমিক













1 thought on “বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, এবার কি মিলবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণ’?”