২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আমেরিকায় ৯/১১ হামলার ঠিক দু’দিন আগে আফগানিস্তানে ঘটে যায় আর এক গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ড। (Ahmad Shah Massoud Killed) আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন তালিবান-বিরোধী নেতা আহমদ শাহ মাসুদ। পরে তাঁর হত্যাকাণ্ডকে আল কায়দা প্রধান (Osama Bin Laden) ওসামা বিন লাদেনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
সাংবাদিক সেজে এসেছিল ঘাতকরা
আফগানিস্তানের নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা (Ahmad Shah Massoud Killed) মাসুদ তখন পাঞ্জশির উপত্যকায় তালিবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। Newsweek-এর তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ান টেলিভিশন সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাঁর শিবিরে আসে। নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে মাসুদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ক্যামেরার ভিতরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিস্ফোরক।
৯/১১-র আগে বড় ধাক্কা
(Ahmad Shah Massoud Killed) মাসুদের মৃত্যুর খবর নর্দার্ন অ্যালায়েন্স প্রকাশ্যে জানায় ১৫ সেপ্টেম্বর। তালিবানের বিরুদ্ধে উত্তর আফগানিস্তানে তাঁর গড়ে তোলা প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্ব তালিবান নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা ছিল। বিন লাদেনের কাছেও সেই হুমকি সম্পর্কে পরিচিত ছিল। ৯/১১-র পর আমেরিকার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে মাসুদকে সরানো আল কায়দা ও তার তালিবান সহযোগীদের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারত।
ওডিশার জঙ্গলে পাঁচ ওরাংওটাং! কোথা থেকে এল? পাচারের সন্দেহে তদন্ত
Ahmad Shah Massoud Killed: CIA-ও চিন্তিত হয়ে পড়েছিল
CIA কর্মকর্তা গ্যারি বার্নটসেন পরে জানান, মাসুদের হত্যার খবর তাঁকে আশঙ্কায় ফেলেছিল—তাঁর মনে হয়েছিল, নর্দান অ্যালায়েন্স হয়তো শেষ হয়ে গেল। তবে CIA প্রধান জর্জ টেনেটের দাবি ছিল, উত্তরের অন্য যুদ্ধপ্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকায় তাদের পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি।
Ahmad Shah Massoud Killed: পাকিস্তানের ভূমিকাও প্রশ্নে
৯ সেপ্টেম্বরই পাকিস্তানি গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল মাহমুদ আহমেদের সঙ্গে টেনেটের বৈঠক হয়েছিল। মাহমুদ তালিবান নেতা মোল্লা ওমরকে সমর্থন করেন এবং বিন লাদেনকে হস্তান্তরের জন্য তালিবান কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরামর্শ দেন। ৯/১১-র পর আমেরিকা পাকিস্তানের সহযোগিতা দাবি করে এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সেখানে গোপনে আমেরিকান বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।












