একটা সাধারণ ছবি। তারপর কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা। আর সেই ছবিই বদলে যাচ্ছে কখনও অ্যানিমে চরিত্রে, কখনও বলিউডের নায়িকায়, কখনও আবার খেলনার বাক্সে সাজানো ছোট্ট মূর্তিতে। গত দেড় বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় AI ছবি তৈরির ট্রেন্ড যেন একের পর এক নতুন চেহারা নিয়েছে। শুরুটা হয়েছিল Ghibli-ঝড় দিয়ে। সেখান থেকে AI পৌঁছে গিয়েছে শাড়ি, কার্টুন, পুরনো সিনেমা, ক্রেয়ন এবং ৮০-র দশকের নস্টালজিয়াতেও। (Viral AI Trends)
গিবলি দিয়েই শুরু
২০২৫ সালের শুরুতে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছিল Studio Ghibli-ধাঁচের ছবি। সাধারণ সেলফি, পোষ্য কিংবা দৈনন্দিন মুহূর্তকে নরম আলো এবং নস্টালজিক অ্যানিমে লুকে বদলে দিচ্ছিল AI। ChatGPT-র ২০২৫ সালের প্রথম দিকের ছবি তৈরির আপডেট এই ট্রেন্ডকে আরও জনপ্রিয় করে। (Viral AI Trends)

শাড়িতে AI-এর নতুন সাজ
ঘিবলির পর AI-তে শুরু হয় সাজ বদলের খেলা। সাধারণ ছবিকে শাড়ি, ট্র্যাডিশনাল লুক এবং পুরনো দিনের বলিউডের আবহে বদলে ফেলার প্রবণতা ভাইরাল হয়। Google Gemini-র Nano Banana-সহ AI ইমেজ এডিটর ব্যবহার করে তৈরি হতে থাকে এমন ছবি।

ছবি থেকে খেলনা
এরপর মানুষ নিজেকেই বানিয়ে ফেললেন অ্যাকশন ফিগার। ছবির মানুষটি হয়ে উঠল বাস্তবসম্মত 3D খেলনা। সঙ্গে থাকল ডিসপ্লে বক্স, নানা অ্যাকসেসরিজ এবং প্যাকেজিং লেবেল। (Viral AI Trends)

Nano Banana-র দাপট
সেখান থেকেই আরও এগোয় Nano Banana ট্রেন্ড। ছোট্ট 3D চরিত্র, মিনি-ডায়োরামা এবং অত্যন্ত সাজানো সংগ্রহযোগ্য মডেলে বদলে যেতে থাকে মানুষ ও জনপ্রিয় চরিত্রের ছবি। Google-এর Gemini ইমেজ মডেল এই ট্রেন্ডকে গতি দেয়। (Viral AI Trends)

AI-র চোখে নিজের জীবন
এরপর আসে AI caricature trend। নিজের ছবি দিয়ে ChatGPT-কে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কাজ, জীবন বা পরিচিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যক্তিগত কার্টুন তৈরি করতে। একই প্রবণতার আরও একটি রূপও দেখা যায়, যেখানে AI আগের জানা তথ্য ব্যবহার করে ছবিকে আরও ব্যক্তিগত করে তোলে। (Viral AI Trends)

ফিরে দেখা পুরনো বলিউড
AI-এর জনপ্রিয়তার পর মানুষ আরও পিছিয়ে যান সময়ের পাতায়। আধুনিক ছবি বদলে যেতে থাকে পুরনো বলিউডের পোস্টার কিংবা আঞ্চলিক ভিনটেজ ছবির মতো। অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন, পুরনো পোশাক এবং ঐতিহাসিক আবহ যোগ করে তৈরি হয় সেই ছবি। (Viral AI Trends)

ক্রেয়নে শৈশবের ছোঁয়া
এরপর আসে AI crayon trend। সেলফি বা পুরো Instagram প্রোফাইলকে AI দিয়ে বদলে ফেলা হয় শিশুর হাতে আঁকা মোম-রঙের ছবির মতো। নিখুঁত ছবির বদলে ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয় আঁকিবুঁকির সরলতা।

শেষে ৮০-র দশকে ফেরা
সবশেষে ফের নস্টালজিয়া। আধুনিক ডিজিটাল ছবিকে বদলে দেওয়া হচ্ছে ১৯৮০-র দশকের পুরনো ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো। কম স্যাচুরেশন, ফ্ল্যাশের আলো এবং দানাদার ছবিতে ফিরছে সেই সময়ের আবহ। (Viral AI Trends)

অর্থাৎ ঘিবলি দিয়ে যে AI-ছবি বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তা এখন শুধু ছবি বদলানোর ট্রেন্ড নয়। একটি ছবি থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন পৌঁছে গিয়েছে কল্পনার বহু দূর। গিবলি-ধাঁচের অ্যানিমে ছবি দিয়ে যে উন্মাদনা শুরু হয়েছিল, তা ধাপে ধাপে বদলে দিয়েছে মানুষের ছবি দেখার অভ্যাসও। কখনও নিজেকে সিনেমার নায়ক-নায়িকার মতো দেখা, কখনও খেলনার চরিত্রে, আবার কখনও শৈশবের আঁকিবুঁকিতে—প্রতিটি ট্রেন্ডেই রয়েছে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের গল্প। আর AI-এর প্রতিটি নতুন আপডেট সেই গল্পে যোগ করছে নতুন অধ্যায়। (Viral AI Trends)













2 thoughts on “এক ছবি ও তার হাজার রূপ, ঘিবলি থেকে ভিনটেজ, কীভাবে বদলাল AI দিয়ে ছবি তৈরি”