বিহারে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ফের সামনে এল নদী ব্যবস্থাপনার বড় প্রশ্ন। স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হলেও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বুড়ি গণ্ডক, পুনপুন ও ঘাঘরা নদীর বিভিন্ন অংশে জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এই পরিস্থিতিতে নদী অববাহিকা ধরে পরিকল্পনা এবং আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। (Bihar flood)
বিহারে ১ জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উজান থেকে বেশি জল আসার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরেই নদীগুলির জলস্তর বেড়েছে। (Bihar flood)
গঙ্গার জলে বাড়ছে চাপ
গঙ্গার জলস্তর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গণ্ডক ও পুনপুন নদীতে তৈরি হয়েছে ‘ব্যাকওয়াটার এফেক্ট’। এই নদীগুলি গঙ্গায় গিয়ে মেশে। কিন্তু গঙ্গায় জল বেশি থাকায় গণ্ডক ও পুনপুনের জল সহজে বেরোতে পারেনি। ফলে নদীগুলির জল পিছনে জমে যায়। তাতেই বন্যার চাপ আরও বেড়েছে।
শুধু বাঁধ দিয়ে বন্যা আটকানো সম্ভব নয়
বিহার দীর্ঘদিন ধরেই বন্যার হাত থেকে বাঁচতে নদীর দু’পাশে বাঁধ তৈরি করে আসছে। কিন্তু বাঁধ নদীকে তার স্বাভাবিক প্লাবনভূমি থেকে আলাদা করে দেয়। পাশাপাশি নদীতে ক্রমাগত পলি জমতে থাকায় নদীর তলদেশ উঁচু হয়। কমে যায় জল ধরে রাখার ক্ষমতা। বাঁধ ভাঙলে সেই জল দ্রুত লোকালয় ও কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে।
তাই শুধু আরও উঁচু বা শক্তিশালী বাঁধ তৈরি করলেই বন্যার সমস্যা মিটবে না। বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। নদীর প্লাবনভূমি ও জলাভূমি রক্ষা করতে হবে। জমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং দ্রুত বন্যার সতর্কবার্তার ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে।
ফরাক্কা নিয়ে বিহারের অভিযোগ
ফরাক্কা ব্যারাজ এবং ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে বিহার। রাজ্যের বক্তব্য, ফরাক্কা ব্যারাজ গঙ্গার জলপ্রবাহের ধরন বদলেছে। এর প্রভাব পড়েছে নদীতে পলি জমার উপরও। তবে বিহারের বন্যার সঙ্গে ফরাক্কার সরাসরি সম্পর্ক কতটা, তা নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে। (Bihar flood)
নতুন চুক্তিতে বিহারের দাবি
১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। চুক্তির পুনর্নবীকরণ বা নতুন ব্যবস্থা তৈরির সময় বিহারের উদ্বেগ বিবেচনা করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে নদীতে পলি জমা এবং রাজ্যের নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া দরকার।
নতুন ব্যবস্থায় নদীর জলপ্রবাহের সাম্প্রতিক তথ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে। নদী অববাহিকা ভাগ করে নেওয়া রাজ্য ও দেশগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় জরুরি। জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলেই ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। (Bihar flood)











