রাত তখন প্রায় দেড়টা। চারপাশে মানুষের ভিড়। হাতে ফুল। মুখে জয়ধ্বনি —‘লাড়কি মহাদেবী’। ৪০৯ দিন পর মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের নন্দনী মঠে ফিরল হাতি মহাদেবী। যাঁকে ভালোবেসে ‘মাধুরী’ নামেও ডাকেন ভক্তরা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় মানুষ। শুক্রবার গভীর রাতে সেই অপেক্ষার অবসান হল। (Maharashtra Mahadevi Elephant)
ফুলের মাধ্যমে স্বাগত
জামনগরের হাতি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় মহাদেবীকে নন্দনীতে নিয়ে আসা হয়। তাঁর সঙ্গে ছিল ৪২ জনের দল। বন দফতরের কর্মী, ভান্তারা-র সদস্য এবং চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই দল। রাতের দিকে নন্দনী মঠে পৌঁছনোর পর বিশেষভাবে তৈরি ‘মাধুরী রেসিডেন্স’-এ তাঁকে নামানো হয়। মহাদেবীর থাকার জন্য মঠের ভিতর আলাদা আশ্রয়স্থলও তৈরি করা হয়েছে। (Maharashtra Mahadevi Elephant)
মঠের নিশিধিকা এলাকায় ঢোকার সময় ফুল ছুড়ে মহাদেবীকে স্বাগত জানান ভক্তরা। তাঁর নাম ধরে চলতে থাকে জয়ধ্বনি। আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মঠের প্রধান স্বস্তিশ্রী ভট্টারক পট্টাচার্য মহাস্বামীও। মহাদেবীকে ফিরে পেয়ে চোখে জল চলে আসে তাঁর।
রাস্তার দু’ধারেও মানুষের ভিড়
মঠে পৌঁছনোর আগেই শুরু হয়েছিল অভ্যর্থনা। কিনি টোল প্লাজা থেকে নন্দনীর গান্ধী চৌক পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ভিড় করেন শত শত মানুষ। বাড়ির দরজায় রঙ্গোলি এঁকে সাজিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গান্ধী চৌকে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতেই ফুল ছুড়ে অভ্যর্থনা জানান তাঁরা। মহাদেবীর ফেরার মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন ভান্তারা-র CEO ভিহান কারানি, নন্দনী মঠের স্বস্তিশ্রী জিনসেন ভট্টারক পট্টাচার্য মহাস্বামী, ভারুর মঠের স্বস্তিশ্রী ধর্মসেন ভট্টারক এবং কোলাপুর মঠের স্বস্তিশ্রী লক্ষ্মীসেন ভট্টারক মহাস্বামী। ছিলেন সাংসদ ধৈর্যশীল মানে, বিধায়ক রাহুল আওয়ালে, কৃষ্ণরাজ মহাদিক-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি।
মহারাষ্ট্র ও উত্তর কর্নাটকের বহু মানুষের কাছে নন্দনী মঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। আর সেই মঠে মহাদেবীর ফিরে আসা তাই স্থানীয় মানুষের কাছে হয়ে উঠল আবেগের এক বিশেষ রাত। (Maharashtra Mahadevi Elephant)
আরও পড়ুন :- গুলজারের পাশে দাঁড়িয়েই নার্ভাস ‘বেবো’, ‘দায়রা’ নিয়ে কী বললেন করিনা?










1 thought on “৪০৯ দিনের অপেক্ষার অবসান, নান্দানি মঠে ফিরল প্রিয় ‘মহাদেবী’, কে এই মহাদেবী’?”