নয়াদিল্লিতে শনিবার BRICS শীর্ষ সম্মেলনের শেষে প্রকাশ্যে এল ২০২৬ সালের ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’। ঘোষণাপত্রের বড় অংশ জুড়ে থাকল গাজা ও প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গ। গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, মানবিক সাহায্য পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করা এবং প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করল BRICS-এর সদস্য দেশগুলি। ঘোষণাপত্রে প্যালেস্টাইনিদের জোর করে গাজা বা অধিকৃত প্যালেস্টাইনের অন্য কোনও এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে । অস্থায়ী বা স্থায়ী, কোনও কারণেই এমন স্থানান্তর মেনে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গাজার ভৌগোলিক বা জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে BRICS. ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনে অধিকৃত এলাকা নিয়ে সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছে। দ্রুত এমন সব পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা শান্তির পথে বাধা তৈরি করে। (BRICS Declaration)
গাজায় মানবিক সাহায্যের দাবি
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার উপর জোর দিয়েছে BRICS. সাধারণ মানুষের কাছে যাতে কোনও বাধা ছাড়াই মানবিক সাহায্য পৌঁছয়, তারও দাবি জানানো হয়েছে। গাজা নিয়ে UNSC Resolution 2803 গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবে Gaza Peace Plan এবং Board of Peace-এর স্বীকৃতির বিষয় রয়েছে। এর মাধ্যমে গাজায় ভবিষ্যতে একটি প্যালেস্টাইনি সরকার গঠনের পথ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। (BRICS Declaration)
দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইজরায়েল-বিরোধী ICJ মামলার কথাও স্মরণ করেছে BRICS. গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইজরায়েলের আইনি দায়িত্ব রয়েছে বলেও ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। (BRICS Declaration)
১৯৬৭ সালের সীমানায় স্বাধীন প্যালেস্টাইন
প্যালেস্টাইনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে BRICS. ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার মধ্যে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন—দুই রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর বার্তাও দিয়েছে BRICS. সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগনোর আহ্বান জানানো হয়েছে। (BRICS Declaration)
পরমাণু অস্ত্র নিয়েও উদ্বেগ
শুধু গাজা নয়, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক খরচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে BRICS. পরমাণু সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় পরমাণু অস্ত্র এবং অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত এলাকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সদস্য দেশগুলি।
একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে BRICS. আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা হয়েছে।
কোনও দেশের উপর একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ চাপানোর ফলে সাধারণ মানুষের উপর বড় প্রভাব পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গরিব ও দুর্বল মানুষের উপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়ে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে একতরফা শুল্ক ও বাণিজ্যিক বাধা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং WTO-র নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছে BRICS. (BRICS Declaration)
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে আরও কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। বাণিজ্যে হঠাৎ তৈরি হওয়া সমস্যা মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছে এই সম্মেলন।











1 thought on “গাজা থেকে বিশ্ব অর্থনীতি, BRICS-এর নয়াদিল্লি ঘোষণায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা”