[ছবি: এক্স]
ওডিশার বালেশ্বরে নির্জন ক্যাসুয়ারিনা বাগান থেকে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল আগেই। (Exotic Primate Smuggling Network) এবার সেই ঘটনার সূত্র ধরেই সামনে এল আরও বড় উদ্বেগ—ভারতে বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিরল প্রাইমেট পাচারের প্রবণতা। RTI-এ পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মুম্বই ও বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরেই ১৬টি পাচারের ক্ষেত্রে অন্তত ৩০টি গিবন, ট্যামারিন, মার্মোসেট ও ডুক উদ্ধার করেছে কাস্টমস।
ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ওরাংওটাংয়ের কোনও প্রাকৃতিক বসতি ভারতে নেই। ফলে বালেশ্বরের জঙ্গলে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাংয়ের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই পাচারের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলিকে নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।
আগেও মিলেছে পাচারের প্রমাণ
ভারতে এই প্রথম পাচার হওয়া ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভলিতে একটি ফ্ল্যাট থেকে বিরল প্রজাতির ওরাংওটাং উদ্ধার হয়। ২০২০ সালের জুলাইয়ে মুম্বইয়ের আগ্রিপাড়া এলাকার একটি বাড়িতেও শিশু ওরাংওটাংয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিলেন এক পশুচিকিৎসক।
(Exotic Primate Smuggling Network) ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেন্নাইয়ে আটটি পাচার হওয়া ওরাংওটাং নিয়ে যাওয়া একটি চক্রকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে চার পুলিশকর্মী সাসপেন্ড হন। প্রাণীগুলিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সড়কপথে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। একই বছরে বেঙ্গালুরুর একটি বাড়ির শৌচাগার থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় ইয়াকি বানরকে খাঁচাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে DRI।
Exotic Primate Smuggling Network: চেন্নাই পাচারের অন্যতম হাব
গত সাত বছর ধরে চেন্নাইয়ে একাধিক প্রাইমেট পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। গত বছর থানে পুলিশ বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দাকে দুই শিশু গিবন সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার করে। এর কিছুদিন আগে উত্তর চেন্নাইয়ে একটি বাড়ি থেকে পালিয়ে বিদ্যুৎ তার ও গাছে ঘুরে বেড়ানো শিশু গিবনকেও উদ্ধার করা হয়। গত মাসেই অভিনেতা বিক্রমকে একটি লার গিবনের সঙ্গে দেখা যায়, যেটি মায়ানমার-ভারত স্থলসীমান্ত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পাচার হয়েছিল বলে জানা যায়।
দেশজুড়ে ৭৩টি সাইবার প্রতারণায় Airtel ডিস্ট্রিবিউটরকে গ্রেফতার করল CBI
‘পোষা প্রাণী’র চাহিদাই বড় কারণ
বন্যপ্রাণী কর্মী শ্রাবণ কৃষ্ণনের মতে, ধনী ও প্রভাবশালীদের মধ্যে শিশুদের মতো দেখতে প্রাইমেট পোষার চাহিদাই এই ব্যবসাকে উসকে দিচ্ছে। সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও বানরকে পোষ্য হিসেবে দেখানোর প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিশু প্রাইমেট ধরতে অনেক সময় মাকে হত্যা করা হয়। গাছনির্ভর এই প্রাণীদের মানুষের বাড়িতে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের বিকল্প সেখানে তৈরি করা সম্ভব নয়। বন্দিদশায় এরা প্রজননও করে না—কারণ এদের পোষ মানানো গেলেও গৃহপালিত করা যায় না। রয়েছে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও। (Exotic Primate Smuggling Network)
Exotic Primate Smuggling Network: পাচারচক্রের শিকড় খুঁজতে দাবি
বেঙ্গালুরুর বন্যপ্রাণী কর্মী ত্রিশলা অশোকের দাবি, তদন্ত শুধু প্রাণীগুলি কোথা থেকে এসেছে তা জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। পাচারের রুট, নেটওয়ার্ক এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সন্ধানও জরুরি। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বিদেশি প্রাণীদের নিজ নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঁচ শিশু ওরাংওটাংকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা করছে।










