আজকাল ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু ঘরোয়া ভারতীয় খাবারই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী। কোনও মশলাদার খাবার নয়। বাড়ির তৈরি এই ভারতীয় এই ৬টি খাবারই সুস্থ রাখবে আপনার শরীর (healthier Indian foods)।
healthier Indian foods: ডাল ও ভাত
ভারতীয় খাবারগুলির মধ্যে ভাত আর ডালের জুড়ি মেলা ভার। ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, আর ভাতে থাকে কার্বোহাইড্রেট। যা আমাদের শরীরে শক্তি জোগায়। আলাদাভাবে খেলে, প্রতিটিই তার নিজের নিজের কাজ করে। একসঙ্গে এইটি একটি সুষম খাবার তৈরি করে। যাঁরা নিরামিষ খাবার খান, তাঁদের জন্য ভাত, ডাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাল এবং ভাত এক সঙ্গে খেলে শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিডের ঘাটতি মেটায়। এর সঙ্গে সামান্য ঘি, কিছু সবজি এবং এক চামচ দই যোগ করলে, তা পুষ্টিকর হয়ে ওঠে (healthier Indian foods)।
রুটি ও ঘি
সকালে বা যেকোনও সময়ে ঘি মাখানো রুটি খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। রুটিতে ঘি লাগালে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (কার্বোহাইড্রেটের শোষণের মাত্রা) কমে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঘি ও রুটির স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। ঘি-এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রুটির ও অন্যান্য খাবারের ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন- ভিটামিন এ, ডি, ই) শরীরে সহজে শুষে নিতে সাহায্য করে। ঘি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করে।
পালং শাক এবং লেবু
পালং শাকের সঙ্গে লেবু মিশিয়ে খেলে শরীরের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। পালং শাকে প্রচুর আয়রন থাকে। লেবুর ভিটামিন সি এই আয়রন সহজে শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পালং শাকের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসঙ্গে কোষকে সুরক্ষিত রাখে। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে এবং পালং শাকের পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।
দই এবং ভাজা জিরে
দই ও ভাজা জিরের মিশ্রণ হজমশক্তি উন্নত করতে, ওজন কমাতে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে বিশেষ উপকারী। ভাজা জিরের এনজাইম ও দইয়ের প্রোবায়োটিক পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদ হজম দূর করে। এটি মেটাবলিজম বাড়িয়ে বাড়তি চর্বি ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই মিশ্রণে থাকা ফাইবার ও পুষ্টি উপাদান মলত্যাগ সহজ করে। গরমে দই ও জিরের ঘোল বা রায়তা শরীর সতেজ ও ঠান্ডা রাখে। নিয়মিত খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
হলুদ এবং কালো গোলমরিচ
হলুদ ও কালো গোলমরিচ একসঙ্গে খেলে হলুদের পুষ্টিগুণ শরীরে প্রায় ২০০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি শোষিত হয়। হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদান শরীর সহজে একা শোষণ করতে পারে না। কালো গোলমরিচের ‘পিপারিন’ এটি শোষণে সাহায্য করে। এটি জয়েন্টের ব্যথা ও শরীরের প্রদাহ কমাতে খুব ভালো কাজ করে। সর্দি-কাশি ও সাধারণ সংক্রমণ দূর করতে এটি দারুণ কার্যকরী। খাবার দ্রুত হজম করতে এবং পেটের গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে।
বাজরা ও ডালজাতীয় শস্য
নিয়মিত বাজরা ও ডালজাতীয় শস্য খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তি পায়। বাজরায় প্রচুর ফাইবার থাকে যা ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা মেশাতে সাহায্য করে, ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। বাজরা অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়া কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে













1 thought on “কে বলে মশলাদার? এই ৬ ভারতীয় খাবার শরীর সুস্থ এবং ঝরঝরে রাখবে”