শরতের নীল আকাশ, রঙ-বেরঙের ঘুড়ি আর হাওয়ায় ভেসে থাকা উৎসবের আমেজ— (Vishwakarma Puja) বিশ্বকর্মা পুজো মানেই বাঙালির কাছে যেন ঘুড়ির সঙ্গে এক অদৃশ্য সম্পর্ক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর সম্পর্ক তৈরি হলো কীভাবে?
Vishwakarma Puja: দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা
পুরাণে বিশ্বকর্মাকে দেবশিল্পী, দেবতাদের স্থপতি ও কারিগর হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কথিত আছে, সত্যযুগের স্বর্গ, ত্রেতাযুগের লঙ্কা, দ্বাপরের দ্বারকা এবং কলিযুগের হস্তিনাপুর নির্মাণের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে। দেবতাদের নানা অস্ত্র ও অলঙ্কার তৈরির কৃতিত্বও তাঁকেই দেওয়া হয়। পুরাণের একটি কাহিনি অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে শিব-পার্বতীর জন্য সোনার প্রাসাদ তৈরি করেন বিশ্বকর্মা। অন্যদিকে, দ্বাপরযুগে সমুদ্রের বুক থেকে জমি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্য দ্বারকা নির্মাণের কৃতিত্বও বিশ্বকর্মার।
দুর্গাপুজোয় বেলগাছ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন অকালবোধনের সেই পৌরাণিক কাহিনি
Vishwakarma Puja: ঘুড়ির সঙ্গে যোগ কোথায়?
বিশ্বকর্মা পুজো এলেই শরতের নীল আকাশ যেন বদলে যায় রঙিন ঘুড়ির মেলায়। পাড়ার ছাদ থেকে মাঠ—সর্বত্র শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ। কিন্তু দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনার সঙ্গে এই ঘুড়ির যোগসূত্র তৈরি হলো কীভাবে? এর পিছনে রয়েছে পুরাণ, লোকবিশ্বাস এবং মানুষের নিজস্ব ব্যাখ্যার মেলবন্ধন। বিশ্বকর্মাকে দেবতাদের আকাশযান ও উড়ন্ত রথের নির্মাতা হিসেবে মনে করা হয়। পুরাণের বিভিন্ন কাহিনিতে দেবতাদের জন্য তাঁর তৈরি নানা অলৌকিক যান ও রথের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই উড়ন্ত রথের ভাবনা থেকেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি জনপ্রিয় হয়েছে বলে মনে করা হয়।
তবে এই রীতির আরও একটি সামাজিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ঘুড়িকে অনেকেই শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। কলকারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, কারিগর, সূত্রধর থেকে শুরু করে যানবাহনের চালক—কাজের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ বিশ্বকর্মার আরাধনা করেন। বছরের ব্যস্ততার মাঝে পুজোর এই একটি দিন তাঁদের কাছে কিছুটা অবসর ও আনন্দের সুযোগ এনে দেয়। তাই আকাশে মুক্তভাবে ভেসে চলা ঘুড়িকে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্বাধীনতা ও কর্মজীবনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তির প্রতীকী অর্থও। ফলে (Vishwakarma Puja) বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, দেবশিল্পীর সৃষ্টিশীলতা, আকাশযানের কল্পনা এবং শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক সুন্দর মেলবন্ধন।
ব্রেকফাস্ট করেও পেট ভরছে না? খাবারে এই ভুলগুলোই করছেন না তো?













1 thought on “বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ঘুড়ি ওড়ানো হয়? জানলে চমকে যাবেন নেপথ্যের এই কাহিনি”