আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন। তার আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। নন্দীগ্রামে নিজের শিবিরের প্রার্থী সরে যেতেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ১৮ অক্টোবর, শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ এবং ইন্ডি জোটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। এমনকি আগে থেকেই এই সিদ্ধান্ত ঠিক করে ছিল বলেও দাবি তাঁর।
শেষ মুহূর্তে প্রার্থী প্রত্যাহার, তারপরই মমতার ঘোষণা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে আচমকাই নিজের প্রার্থীপদ তুলে নেন সঞ্চিতা। তার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাৎ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়।
তবে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়। নতুন করে প্রার্থী দেওয়ার আর কোনও সুযোগ না থাকায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, নন্দীগ্রামে তাঁরা লড়াই করছেন না, বরং ‘সিস্টার পার্টি’ কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন। একইসঙ্গে জাতীয় স্বার্থে এবং ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতে অসমেও কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানান তিনি।
ভাগ হলো তৃণমূল, উপনির্বাচনে এবার ‘ফুটবলার’ বনাম ‘খাম’
নন্দীগ্রামে বরাবরই বড় রাজনৈতিক লড়াই
নন্দীগ্রাম তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। একসময় এই নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয় এবং শুভেন্দু অধিকারী সেখান থেকে জয়ী হন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পান। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় কেন্দ্রটি বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
সেই উপনির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়ছিল। কিন্তু ভোটের কয়েকদিন আগে সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং তার পরেই মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা গোটা সমীকরণটাই বদলে দিল। ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামের ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে সকলে।











1 thought on “নন্দীগ্রামে মুখ রক্ষার্থে কংগ্রেসকে সমর্থন? প্রার্থী প্রত্যাহারের পরেই মমতার ঘোষণায় চমক”