চলতি বছরে ভারতে বর্ষার ঘাটতি ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। হিসাব বলছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির বড়সড় উন্নতি না হলে গত ১৭ বছরের মধ্যে এ বারই সবচেয়ে দুর্বল বর্ষার মুখ দেখতে পারে দেশ। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন এবং আগামী দিনে খাদ্যপণ্যের দামের উপর।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি ইতিমধ্যেই ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির পিছনে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মরশুমের শেষে বৃষ্টির ঘাটতি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বাড়লেও তাতে সামগ্রিক ঘাটতি কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে।
Poor Monsoon: ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে কম বৃষ্টি?
বর্ষার ঘাটতি যদি শেষ পর্যন্ত এই পর্যায়েই থাকে, তা হলে ২০০৯ সালের পর এই ২০২৬ হবে ভারতের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষাকাল। ২০০৯ সালে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। অথচ চলতি মরশুমের শুরুতে আবহাওয়া দফতর গোটা মরশুমে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ১০ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই ঘাটতি আরও বাড়ায় উদ্বেগও বেড়েছে।
ভারতের কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশের কোটি কোটি কৃষক এখনও চাষের জন্য মৌসুমি বৃষ্টির উপরই নির্ভরশীল। সেচের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা বহু কৃষিজমিতে বর্ষার জলই চাষের অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি থাকলে শুধু চলতি মরশুমের ফসল নয়, পরবর্তী ফসলের চক্রও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আশ্বিনের শুরুতে বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, সতর্কতা রাজ্যে
চাল, চিনি থেকে ভুট্টা-সবেতেই প্রভাবের আশঙ্কা
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় চাল, চিনি এবং তুলা উৎপাদক দেশ। ফলে বর্ষার ঘাটতির প্রভাব কৃষিক্ষেত্রে পড়লে বাজারেও তার প্রভাব দেখা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই গত বছরের তুলনায় চাল, আখ এবং ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ পিছিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা। গত কয়েকমাস ধরে দেশে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির হার টানা বেড়েছে। অগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৫.৯৫ শতাংশে, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্ষার ঘাটতির কারণে ফসলের উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। তার ফলে আগামী দিনে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যেই কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক ছাড়াই চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাজ্যে ভর্তুকি দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বর্ষার ঘাটতি কতটা পূরণ হয় এবং ফসলের উৎপাদন কতটা প্রভাবিত হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনে বাজারের পরিস্থিতি।












