‘ভুয়ো’ ডাক্তারি শংসাপত্রের অভিযোগকে হাতিয়ার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে। (Sonarpur Doctor Blackmail) পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিয়ারা এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসককে ভয় দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, গোসাবার তৎকালীন বিএমওএইচ গিরিন্দ্রনাথ মণ্ডলের বাড়িতে কয়েকজন যুবক গিয়ে তাঁর নামে ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যুর অভিযোগ তোলেন। সেই নথি প্রকাশ্যে আনার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণনাশের হুমকির পর চিকিৎসক পাঁচ লক্ষ টাকার একটি চেক দেন বলে তাঁর দাবি। ঘটনায় সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
Table of Contents
২০০৮ সালের সার্টিফিকেট ঘিরেই চাপানউতোর
(Sonarpur Doctor Blackmail) অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০০৮ সালের একটি শংসাপত্র। নথিতে নাম রয়েছে ড. আব্দুর রহমান শেখের। সার্টিফিকেটে ‘Certificate of 3 Years Continued Medical Education’ এবং ‘Basic Medical Practitioner (Diploma)’ উল্লেখ রয়েছে। কথিত নথিতে পরীক্ষার তারিখ ২৫ মার্চ ২০০৮, গ্রেড বি এবং সার্টিফিকেটের তারিখ ৪ মে ২০০৮। ইস্যুকারী অফিস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গোসাবার বিএমওএইচ-এর দফতর।
চিকিৎসকের দাবি, ‘প্রাণনাশের ভয়েই চেক দিয়েছি’
(Sonarpur Doctor Blackmail) ডাঃ গিরিন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, “একটা থেকে দেড়টার নাগাদ চারজন লোক আসে। তিনজন ভিতরে ঢোকে, একজন বাইরে ছিল। আমার নামে এই সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে বলে আমাকে দেখায়। আমি বলি, এটা আমার স্বাক্ষর নয়। তারপর বলে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, না হলে সব জায়গায় জানিয়ে দেবে। পাঁচ লক্ষ টাকার একটা চেক এবং একটা ব্ল্যাঙ্ক চেক দিতে বলে। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় আমি পাঁচ লক্ষ টাকার চেক লিখে দিই। এখন আমি সুবিচার ও নিরাপত্তা চাইছি।” ব্যাংক সংক্রান্ত নথিতে সঞ্জয় মণ্ডলের নাম রয়েছে বলে দাবি তাঁর। থানার লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি সঞ্জয় মন্ডল, সুকদেব প্রামানিকের নাম সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। চিকিৎসকের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল এবং গেরুয়া পোশাক পরেছিল।
চিকিৎসকের সহকারী বলেন, “১৬ তারিখে ব্যাংকের পাসবুক আপডেট করার পর দেখি সঞ্জয় মণ্ডলের নামে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। পরে ডাক্তারবাবু জানান, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত আসুক এবং যারা এইভাবে টাকা নিয়েছে তাদের শাস্তি হোক।”
Sonarpur Doctor Blackmail: সুকদেবের পাল্টা অভিযোগ
২০ সেপ্টেম্বর সুকদেব প্রামাণিক স্বাস্থ্য দফতরের কাছে সার্টিফিকেটটির সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “ডাক্তার যে জালি, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতর থেকে CMOH- র কাছে বিভিন্ন জায়গায় মেল পাঠিয়েছি। জনস্বার্থে মামলা করতে চলেছি।” তিনি জানতে চেয়েছেন, নথিটি আদৌ সরকারি রেকর্ডে রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়ে তা সম্পূর্ণ করেছিলেন কি না এবং ওই সার্টিফিকেট দিয়ে এমন যোগ্যতা দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল কি না। তাঁর দাবি, সার্টিফিকেট সংক্রান্ত ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, এমন আরও বহু সার্টিফিকেট দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে সার্টিফিকেটটি জাল কি না, তা এখনও সরকারি যাচাইয়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
Sonarpur Doctor Blackmail: বিধায়কের বক্তব্য
সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর জানিয়েছেন, “নিজেকে বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে যারা এরকম করেছে, তাদের আইডেন্টিফাই করা দরকার। ডাক্তারবাবুকে আমার কাছে আসতে হবে। যে করেছে তার যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর টাকা যাতে ফেরত পান, সেই ব্যবস্থা করব। এই ধরনের যারা সিন্ডিকেট চালিয়ে বেড়াচ্ছে, পুলিশের তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
পুলিশের তদন্ত এবং স্বাস্থ্য দফতরের সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ফলেই এখন স্পষ্ট হবে, নথিটি আসল না জাল এবং পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগের পিছনে কারা রয়েছে।
বন্ধুত্বের ফাঁদে ‘যৌন শোষণ’, পাকিস্তানে বছরে ১৫ লক্ষ শিশু অনলাইন নির্যাতনের শিকার










