মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। কোথাও চলছে বিশেষ পুজো, কোথাও আবার উপবাস ও প্রার্থনা। তামিলনাড়ু জুড়ে শুরু হয়েছে পুরট্টাসি মাসের বিশেষ আচার। এই মাসের শনিবারগুলি ‘পুরট্টাসি সানি’ নামে পরিচিত। শনিদেব এবং ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের আশীর্বাদ পেতে এই দিনগুলিতে বিশেষ পুজো করেন বহু ভক্ত। (Purattasi Sani)
কী এই পুরট্টাসি সানি?
বাংলার আশ্বিন মাসের সঙ্গে অনেকটাই মেলে তামিল ক্যালেন্ডারের পুরট্টাসি মাস। ২০২৬ সালে পুরট্টাসি মাসের শনিবার পড়ছে ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর, ৩ অক্টোবর, ১০ এবং ১৭ অক্টোবর। তামিল ভাষায় ‘সানি’ শব্দটি এসেছে ‘সানিকিঝামাই’ থেকে। যার অর্থ শনিবার। (Purattasi Sani)এই সময় তামিলনাড়ুর তিরুপতি-সহ বিভিন্ন বিষ্ণুমন্দিরে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের একাংশের বিশ্বাস, পুরট্টাসি মাসেই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাই এই মাসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
শনির অশুভ প্রভাব কাটানোর বিশ্বাস
পুরট্টাসি মাসে অনেক ভক্ত নিরামিষ খাবার খান। কেউ কেউ পিঁয়াজ-রসুনও এড়িয়ে চলেন। আবার অনেকে মাসের প্রতিটি শনিবার উপবাস করেন। এই ব্রতকে তাঁরা শরীর ও মনকে সংযত রাখার আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবেও দেখেন। ‘পুরট্টাসি সানি বিরথম’ বা শনিবারের ব্রতকে ঘিরে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। কথিত, তিরুমালার এক দরিদ্র ভক্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের পুজো চালিয়ে যেতেন। শনির সাড়ে সাতির প্রভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও তাঁর ভক্তিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। (Purattasi Sani)
তাঁর নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে ভেঙ্কটেশ্বর তাঁকে রক্ষা করেন বলে বিশ্বাস। সেই থেকেই ধারণা ছড়িয়ে পড়ে, পুরট্টাসির শনিবার নিষ্ঠাভরে ভেঙ্কটেশ্বরের পুজো করলে শনির অশুভ প্রভাব কমতে পারে। তাই এই পাঁচ শনিবার ঘিরে তামিলনাড়ুতে বিশেষ ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়।











