এশিয়ান গেমসে পর পর তিন বার পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের উশু তারকা রোশিবিনা দেবী নাওরেম (Roshibina Devi Naorem)। ২০১৮ সালে ব্রোঞ্জ, ২০২২ সালে রুপোর পর এ বারও রুপো জিতলেন মণিপুরের এই খেলোয়াড়। এর সঙ্গেই এশিয়ান গেমসে তিনটি পদক জেতা প্রথম ভারতীয় উশু খেলোয়াড় হলেন তিনি। তবে এ বার তাঁর পদক জয়ের পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। দলে সুযোগ পাওয়া থেকেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক এবং চোটের লড়াই। তবে সেই কঠিন পথ পেরিয়েও দেশের মান রাখলেন তিনি।
Asian Games 2026: ২০১৮ থেকে ২০২৬, পদকের হ্যাটট্রিক
মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকার্তা এশিয়াডে মহিলাদের ৬০ কেজি সান্দা বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন রোশিবিনা। ২০২২ সালের হাংঝৌ গেমসে একই বিভাগে রুপো পান। আর এবার ২৫ বছর বয়সে নাগোয়ার আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে ফের রুপো জিতে নিজের পদকের সংখ্যা তিনে নিয়ে গেলেন তিনি।
তবে এ বার প্রথমে এশিয়াডের দলেই ছিলেন না রোশিবিনা। এক বছর আগে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর নির্বাচনী ট্রায়ালে দিব্যাংশী চৌধুরীর কাছে হেরে যান তিনি। ২২ অগস্ট ক্রীড়া মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়া ভারতের ৭ সদস্যের উশু দলে তাই জায়গা হয় দিব্যাংশীর।
এর পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি। দিব্যাংশীর হাঁটুতে গুরুতর আংশিক ACL চোট ধরা পড়ে। ২০২৬ SCO উশু সান্দা চ্যাম্পিয়নশিপে চিনের হুবেইয়ে চোট পাওয়ার পর অগস্টে জাতীয় শিবিরে ফিরে সেটি আরও খারাপ হয়। এরপর মেডিক্যাল পরীক্ষার ভিত্তিতে উশু অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া রোশিবিনাকে বদলি হিসেবে বেছে নেয়। পরে ক্রীড়া মন্ত্রকও সেই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়।
অর্থ যেন বাধা না নয়, শুটারকে রাইফেল উপহার, মন জিতলেন আয়ুষ্মান
নির্বাচনী বিতর্ক পেরিয়ে ফাইনালে লড়াই
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান দিব্যাংশী। সমাজমাধ্যমে এক ভিডিয়োয় তিনি রোশিবিনার বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, হাঁটুতে টেপ লাগিয়ে খেলার জন্য চিকিৎসকের অনুমতিও ছিল তাঁর কাছে। উশু অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, পুরো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে চোটের চিকিৎসাগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে।
এর পর এশিয়াডে নেমে রোশিবিনা (Roshibina Devi Naorem) প্রথমেই ম্যাকাওয়ের চু মান সিনকে ৫-০ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল জেতেন। সান্দায় সেমিফাইনালে উঠলেই অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও বড়। সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার থানিয়া কুসুমানিংত্যাসকে ২-০ হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন। শেষ লড়াইয়ে চিনের ঝাং শিয়াওয়ুর কাছে ০-২ হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
এই পদক নিয়ে এশিয়াডে উশুতে ভারতের পদক সংখ্যা হলো ১১। একটি সোনা, দু’টি রুপো এবং আটটি ব্রোঞ্জ। আর ২০২৬ এশিয়াডে ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১৪। উল্লেখ্য, উশুর দুই বিভাগ—তাওলু ও সান্দা। তাওলুতে নির্দিষ্ট কৌশল ও সাজানো মুভমেন্ট দেখানো হয়, আর সান্দা মূলত লড়াইভিত্তিক বিভাগ। চিন ও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই খেলায় শক্তিশালী। সেই মঞ্চেই রোশিবিনার পর পর তিন এশিয়াডে পদক জয়ের কীর্তি ভারতীয় উশুর ইতিহাসে এক নয়া নজির।













1 thought on “এশিয়াডে হ্যাটট্রিক, ইতিহাস গড়লেন রোশিবিনার, চোট-বিতর্ক পেরিয়ে ফের রুপো”
Comments are closed.