প্রেশার কুকারে রান্না মানেই কম জ্বালানি খরচ, কম সময় খরচ কিন্তু এই খাবার কি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই খাওয়া হচ্ছে? রান্নার পর শুধু প্রেশার কুকারটি পরিষ্কার করলেই হয় না। আরও একটি বিষয় আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। কুকারের ঢাকনার ভিতরে লাগানো রাবারের গ্যাসকেট (pressure cooker)। যা আমরা অনেকেই ভালো করে পরিষ্কার করি না। জানেন এতে কী সমস্যা হতে পারে?
প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট (Gasket) বা রাবার রিংটি নিয়মিত পরিষ্কার করা রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি কেন?
pressure cooker: জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ
রান্নার সময় বাষ্প ও খাবারের কণা গ্যাসকেটের নিচে বা খাঁজে জমা হতে পারে। নিয়মিত কুকার পরিষ্কার না করলে সেখানে আঠালো ময়লা জমে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মায়, যা পরবর্তী সময়ে খাবারের মাধ্যমে পেটে চলে গিয়ে পেটের অসুখ তৈরি করতে পারে (pressure cooker)।
দুর্গন্ধ দূর করা: খাবারে তেল, মশলা বা ঝোলের অংশ গ্যাসকেটে লেগে থাকলে তা থেকে এক ধরনের তীব্র ও বাজে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। আলাদাভাবে পরিষ্কার করলে কুকারটি গন্ধমুক্ত থাকে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: গ্যাসকেটে ময়লা বা তেল জমে থাকলে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে বা কুকারের ঢাকনার সঙ্গে ঠিকমতো সিল (Seal) নাও হতে পারে। এর ফলে সঠিক বাষ্পচাপ তৈরি হয় না, যা রান্নায় দেরি করায় এবং অনেক সময় কুকার বিস্ফোরণও হতে পারে।
স্থায়িত্ব বাড়ানো: রান্নার পর প্রতিবার গ্যাসকেটটি খুলে ঠাণ্ডা জল ও মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখলে এর ইলাস্টিক ভাব বা নমনীয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট কখন পরিবর্তন করা উচিত?
প্রেশার কুকারের গ্যাসকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতি ৬ মাস অন্তর গ্যাসকেট পরিবর্তন করতে হবে। কুকারের ধরন, গ্যাসকেটের উপাদান এবং ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এটি পালটানো দরকার। ব্যবহারকারীদের উচিত প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং গ্যাসকেটে ফাটল দেখা দিলে, সেটি শক্ত বা ঢিলা হয়ে গেলে, আকার বিকৃত হলে কিংবা অন্য কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তা পরিবর্তন করা। অন্যদিকে, প্রেশার কুকার ব্যবহারের পর প্রতিবার গ্যাসকেট এবং সিটি (Whistle) আলাদাভাবে খুলে ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং শুকানোর পর আবার কুকারে লাগান।
কীভাবে প্রেসার কুকারের গ্যাসকেট পরিষ্কার করবেন?
প্রেসার কুকারের রাবারের রিং বা গ্যাসকেট পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি রান্নার পর কুকারের ঢাকনা থেকে গ্যাসকেটটি সাবধানে খুলে নিন। এরপর বাসন মাজার তরল সাবান এবং হালকা গরম জল দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। স্ক্রাবার বা খসখসে কোনো কিছু দিয়ে এটি ঘষবেন না। ধোয়ার পর জল মুছে গ্যাসকেটটি বাতাসে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। সম্পূর্ণ শুকানোর পর আবার ঢাকনায় সেট করুন।
অন্যদিকে আরও একটি পদ্ধতিতে গ্যাসকেটটি পরিষ্কার করতে পারেন। একটি বড় পাত্রে সমপরিমাণ জল এবং সাদা ভিনেগার নিন। তাতে ১-২ চামচ বেকিং সোডা মেশান। এই মিশ্রণে গ্যাসকেটটি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এটি গ্যাসকেটে জমে থাকা খাবারের গন্ধ এবং জীবাণু দূর করবে। ভেজানো শেষে পরিষ্কার জলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। একটি পাত্রে হালকা গরম জলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই জলে গ্যাসকেটটি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলে তরকারির কড়া গন্ধ ও হলদেটে ভাব দূর হয়।













2 thoughts on “সময় বাঁচাতে প্রেশার কুকারের খাবার খাচ্ছেন? ভুল করছেন না তো?”
Comments are closed.