সামনে দুর্গাপুজো আর পুজোর মরসুমকে সামনে রেখে শোলা ও ডাকের গহনা তৈরিতে ব্যস্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের অকুলসাড়া গ্রামের হালদার পরিবার। (Keshpur Shola Craft) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোলা কেটে তৈরি হচ্ছে চাঁদমালা, ফুলঘর, মালা, মঞ্চের সাজ থেকে শুরু করে প্রতিমার বিভিন্ন অলংকার। এ বছর আগের তুলনায় অর্ডারও বেশি এসেছে বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা।
পূর্বপুরুষের শিল্পেই সংসার
অকুলসাড়া গ্রামের দুটি হালদার পরিবার প্রায় ৫০-৬০ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পই তাঁদের প্রধান জীবিকা। মাঠ থেকে শোলা সংগ্রহ করা হয়। প্রয়োজন হলে বাইরে থেকেও শোলা কিনে আনেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা মিলে সারাদিন সেই শোলা কেটে তৈরি করেন বিভিন্ন সামগ্রী। (Keshpur Shola Craft)
শিল্পী আদরী হালদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার এই কাজ করছে। পূর্বপুরুষেরা করতেন। এখন তাঁরাও করছেন। পাশাপাশি পরিবারের ছেলেরাও এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন। শোলার মালা, ঝাড়া, এক চাঁদ, দুই চাঁদ, পাঁচ চাঁদ-সহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করেন তাঁরা। সারা বছর কাজ চললেও পুজোর মরসুমে অর্ডার অনেকটাই বেড়ে যায়।
একাধিক পুজোর জন্য যাচ্ছে সাজ
শিল্পী শ্যামলী হালদার জানান, প্রায় ২৮-৩০ বছর ধরে তাঁর স্বামী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। শ্বশুরের সময় থেকেই তাঁদের পরিবারে এই কাজ চলে আসছে। বর্তমানে বাজারও ভালো। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ ডজনের অর্ডার রয়েছে। এর মধ্যে শোলার দুই চাঁদ, তিন চামচানোয়ালা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। শুধু দুর্গাপুজো নয়, লক্ষ্মীপুজো, মনসাপুজো এবং বিশ্বকর্মা পুজোর জন্যও এই গ্রামের তৈরি সামগ্রী যায়। বিয়ের টোপর, মঞ্চের সাজ, মোড়, সিঁথি এবং প্রতিমার সাজও তৈরি করেন তাঁরা। (Keshpur Shola Craft)
পুজোর অর্ডারে বাড়ছে ব্যস্ততা
শ্যামলী জানান, এ বছর চারটি দুর্গাপ্রতিমা এবং প্রায় ছ’টি লক্ষ্মীপ্রতিমার সাজের কাজ রয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই দুর্গাপ্রতিমার ডাকের সাজ তৈরির কাজ আরও বাড়বে। অকুলসাড়ার এই হালদার পরিবারগুলির তৈরি শোলা ও ডাকের গহনা পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। পুজোর আগে বেশি অর্ডার পাওয়ায় এবার আয়ও বাড়বে বলে আশা করছেন শিল্পীরা। (Keshpur Shola Craft)












1 thought on “৫০ বছরের ঐতিহ্য, পুজোর আগে ডাকের গহনা তৈরিতে ব্যস্ত কেশপুর”
Comments are closed.