দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ। আর এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কলকাতা। কোথাও সাবেকি পুজোর ঐতিহ্য, কোথাও আবার অভিনব থিমে নজরকাড়া শিল্পকর্ম। সব মিলিয়ে কলকাতা এই সময়ে সংস্কৃতির মুক্তাঙ্গন হয়ে ওঠে। কলকাতার পাশাপাশি জমজমা পুজোয় সেজে উঠেছে জেলাও। থিমে কলকাতাকে টক্কর দিচ্ছে জেলা (durga puja 2026)।
durga puja 2026: দক্ষিণ ২৪ পরগনার
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বোসপুকুরে পূর্বশ্রী ক্লাবের থিম নগর উন্নয়ন। এখানে পরিবেশকে বাঁচানোর বার্তা দিয়েছেন পুজো উদ্যোগক্তারা। গাছ কেটে ফ্ল্যাট বাড়ি ও বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই থিমের মাধ্যমে এইটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন পুজো উদ্যোগক্তরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়া নেতাজি সংঘ। এবছর তারা খবরের কাগজ দিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে আস্তে আস্তে লুপ্ত হয়ে যাওয়া হারিকেন, টিভি, টেলিফোন, চায়ের দোকানে আড্ডার চিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে (durga puja 2026)।
মালদহ
মহিলাদের উদ্যোগে দুর্গাপুজো। তার আয়োজন ঘিরে উৎসবের মেজাজ মালদহের বামনগোলার জগতলা পঞ্চায়েতের হাঁসপুকুর গ্রামে। এতদিন গ্রামে দুর্গাপুজোর আয়োজন হতো না। এবছর মাতা মনমোহিনী সেবা সমিতির উদ্যোগে শুরু হওয়া পুজোকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও উদ্দিপনা। পুজোর সূচনা উপলক্ষে ১০৮টি ঘট ভরার আয়োজন করা হয়। গ্রামের মহিলারা হলুদ শাড়ি পরে মাথায় ঘট নিয়ে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে গ্রাম পরিক্রমা করেন। এরপর হাড়িয়া নদী থেকে জল ভরে পুজো শুরু হয়। মহিলাদের এই বর্ণাঢ্য ঘটযাত্রাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
নদিয়া
নদিয়ায় নিজ বাসভবনে ঢাক বাজিয়ে দেবী আরাধনায় মাতলেন রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। পাশাপাশি,তিনি দিব্যাঙ্গদের হুইল চেয়ার বিতরণ করলেন। শুধু তাই নয়, পুজোর পাঁচটা দিন বিভিন্ন মানবিক প্রয়াস রয়েছে বিজেপি সাংসদের। বিগত প্রায় সাত বছর ধরে তাঁর বসভবনে হয়ে আসছে দেবী দুর্গার আরাধনা।
উত্তর ২৪ পরগনা
কর্ণাটকের ঐতিহাসিক মাহিসুর প্যালেসের আদলে সেজে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। রাজকীয় স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি এই মণ্ডপ এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। পুজোর মরশুমে এই অভিনব ভাবনাকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ তুঙ্গে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার টাকি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে এবং হাসনাবাদ স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় এ বছর ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করল এই দুর্গাপুজো। গোটা মণ্ডপ চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে বর্ণময় আলোকসজ্জায়। আলো ও সাজসজ্জার মেলবন্ধনে মণ্ডপটি পেয়েছে এক অন্য মাত্রা।
নাকতলা উদয়ন সংঘ
একসময় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল এই পুজো। এই পুজো এবছর ৪০ বছরে পদার্পণ করল। এবারের তাদের থিম কালোধাওয়ানি। বাঙালি জাতির জীবনের সব কিছুই পঞ্জিকা অনুযায়ী শুরু হয়। ব্যবসা হোক বা চাষবাস, বিবাহ হোক বা মুখে ভাত সমস্ত রকমের আচার অনুষ্ঠান হয়। আর সেই পঞ্জিকাকে মণ্ডপের আনাচে-কানাচে ফুটে উঠেছে।











