ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মাঝে মণ্ডপে শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। অষ্টমীর শেষ আর নবমীর শুরুর বিশেষ মুহূর্তে পালিত হয় সন্ধিপুজো। দেবীর চরণে সাজানো হয় ১০৮টি পদ্ম। জ্বালানো হয় ১০৮টি প্রদীপ। দুর্গাপুজোর এই বিশেষ আচার ঘিরে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দেও এই পুজো ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। (Durga Puja 2026)
চামুণ্ডা রূপে দেবীর আরাধনা
পুরাণ অনুসারে, অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী দুর্গা চামুণ্ডা রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণেই সন্ধিপুজোয় দেবীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট নিয়ে মোট ৪৮ মিনিটের এই বিশেষ সময়। ধর্মীয় বিশ্বাসে এই সন্ধিক্ষণের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। (Durga Puja 2026)
১০৮টি পদ্মের পিছনে কী রহস্য?
একটি প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, অসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গার শরীরে ১০৮টি ক্ষত তৈরি হয়েছিল। দেবীর কষ্ট দেখে মহাদেব তাঁকে দেবীদহে স্নান করার পরামর্শ দেন। (Durga Puja 2026) সেখানে ১০৭টি ক্ষত থেকে ১০৭টি পদ্মের জন্ম হয়। দেবীর যন্ত্রণা দেখে মহাদেবের চোখের জল পড়ে ১০৮তম ক্ষতে। তাতে দেবীর সেই ক্ষতও সেরে যায়। কথিত আছে, ওই অশ্রুবিন্দু থেকে জন্ম নেওয়া পদ্মটি দেবী নিজের কাছে রেখে দেন।
রামচন্দ্রের চোখ উৎসর্গের কাহিনি
কৃত্তিবাসী রামায়ণেও ১০৮টি পদ্মের উল্লেখ রয়েছে। রাবণ বধের আগে অকালবোধনের সময় শ্রীরামচন্দ্র দেবীকে ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করতে চেয়েছিলেন। হনুমান দেবীদহ থেকে ১০৭টি পদ্ম নিয়ে আসেন। একটি পদ্ম কম পড়ায় রামচন্দ্র নিজের নীল পদ্মের মতো চোখ উৎসর্গ করতে উদ্যত হন। তখন দেবী দুর্গা তাঁকে বাধা দেন এবং আশীর্বাদ করেন। পরে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করেন।এই কাহিনির সঙ্গে জড়িয়েই সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের রীতি প্রচলিত বলে মনে করা হয়। দেবীর সামনে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়েও ভক্তরা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয় কামনা করেন। (Durga Puja 2026)












