রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

ফ্রান্স জুড়ে বিক্ষোভের আগুন, লুটপাট ও ভাঙচুর, গ্রেফতার ১২০০-র বেশি

Published on: October 18, 2026
---Advertisement---

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স। শনিবার দেশের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামেন প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় আগুন লাগানো হয়। দোকানপাটে চলে লুটপাট ও ভাঙচুর। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। সংঘর্ষে ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১২০০-রও বেশি মানুষকে। (France Protests)

প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শনিবার সারা দেশে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ। যদিও বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, জমায়েতে মানুষের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। বিকেলে প্যারিসের মূল মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন। প্লাস দে লা রেপুবলিকের কাছে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের ছবিও সামনে এসেছে। (France Protests)

লুই ভুতোঁ ও অ্যাপলের দোকানে লুটপাট

বিক্ষোভের জেরে একাধিক শহরে দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। বোর্দো শহরে বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লুই ভুতোঁ দোকানে লুটপাট চলে। লিল শহরে ভাঙচুর করা হয় অ্যাপলের শোরুম। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানেও হামলা চালানো হয়। লিল ও মার্সেইতে সরকারি ভবনে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ঐতিহাসিক মূর্তির উপর উঠতেও দেখা যায়। সেই সময় আশপাশে আগুন জ্বলছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

রাজধানী ছাড়াও ফ্রান্সের একাধিক শহরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। লিয়ঁ শহরে পর্যটন দফতরের একটি ঐতিহাসিক ভবনে আগুন লাগে। শহরের মেয়র গ্রেগরি দুসেত এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ভবনটি শহরের একটি পরিচিত ঐতিহাসিক নিদর্শন। স্থানীয় পুলিশের অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী আগুন নেভানোর কাজে দমকলকর্মীদের বাধা দেন। লিমোজ শহরের টাউন হলে আগুন লাগার পর ভবনের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মন্টপেলিয়ার ও ভ্যালঁসেও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাঁত এতিয়েনের মেয়র রেজিস হুয়ানিকো জানান, গ্রেনেডের আঘাতে এক যুবকের হাত উড়ে গিয়েছে। (France Protests)

বিক্ষোভকারীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগুন লাগানো, লুটপাট এবং সরকারি ভবনে হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, “পুলিশকে অত্যন্ত হিংসাত্মক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অন্তত ২৪টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশের নজরদারি সংস্থা। এক কিশোরের গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর হাত হারানোর ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্কুলের সমস্যা থেকে শুরু আন্দোলন

প্রথমে ফ্রান্সের মাধ্যমিক স্কুলগুলির অব্যবস্থা নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। স্কুলে শিক্ষক ও কর্মীর অভাব এবং খারাপ পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য গোষ্ঠীও আন্দোলনে যোগ দেয়। ২০১৮ সালে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সদস্যরাও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। গত ৮ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ৩ হাজার অতিরিক্ত অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থামেনি। (France Protests)

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আগামী বছরের এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। ম্যাক্রোঁর মেয়াদও আগামী বছর শেষ হবে। ফলে বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। নেত্রী মেরিন লে পেন অভিযোগ করেছেন, কট্টর বামপন্থীরা বিক্ষোভকারীদের দাবি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি জঁ-লুক মেলঁশোঁর বিরুদ্ধেও হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মেলঁশোঁ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তবে লুটপাট ও আগুন লাগানোর ঘটনারও নিন্দা করেছেন তিনি। পুলিশের সংগঠন UNSA-র দাবি, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশকর্মীদের উপর পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, হিংসার সামনে তারা পিছিয়ে আসবে না। সব মিলিয়ে, জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সে বড় রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় পরিণত হয়েছে। (France Protests)


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now