বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের দাম কোটি টাকারও বেশি। অথচ সেই অভিজাত এলাকায় রাতভর নেই বিদ্যুৎ, বন্ধ জলের সরবরাহ, উধাও ওয়াই-ফাই পরিষেবা। (Gurugram Sector 7 Power Cut) এমনই পরিস্থিতিতে বিপাকে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৭-এর বাসিন্দারা। এদিকে বিদ্যুৎ কর্মীদের তিন দিনের ধর্মঘটের জেরে, এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি থেকে কাজ করা থেকে শুরু করে পড়াশোনা, সবই কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই, সকালে বন্ধ জলও
বৃহস্পতিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৭-এর বাসিন্দা আশিস সারদানা ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ইনভার্টারের চার্জ শেষ। বাড়ির কল থেকে জল পড়ছে না, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও। ৫০ বছর বয়সি আশিস একটি আমেরিকান বহুজাতিক সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিভাগে কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, বুধবার রাত ১০টা থেকেই তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। (Gurugram Sector 7 Power Cut) ফলে বাড়ি থেকে কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তাঁর সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়।
বিদ্যুৎ কর্মীদের ধর্মঘট ঘিরে জটিলতা
(Gurugram Sector 7 Power Cut) ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ধর্মঘটে নেমেছেন বিদ্যুৎ কর্মীরা। গুরুগ্রাম ও নুহে একটি বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ বণ্টনের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি। অল ইন্ডিয়া পাওয়ার কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও ইউনিয়নের নেতৃত্বে চলছে ধর্মঘট। বুধবার গভীর রাত থেকেই গুরুগ্রামের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর সামনে এসেছে।
অবশ্যই পড়ুন: তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৮; আহত ৬৫, ধসে পড়ল ৩৩০টিরও বেশি বাড়ি
সরকারের সমর্থন, আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতি
বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ বণ্টনের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে হরিয়ানা সরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি পথে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। (Gurugram Sector 7 Power Cut)
কোটি টাকার ফ্ল্যাটেও নেই ন্যূনতম পরিষেবা?
(Gurugram Sector 7 Power Cut) গুরুগ্রামের অভিজাত আবাসনগুলিতে বিপুল অর্থ খরচ করে ফ্ল্যাট কিনেও যদি বিদ্যুৎ, জল ও ইন্টারনেটের মতো মৌলিক পরিষেবা না মেলে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতির আড়ালে ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা নিয়েই যদি কোনওধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে সেই আবাসনের সুযোগ-সুবিধার বাস্তব মূল্য কতটা? —গুরুগ্রামের এই পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে।











