বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ফের এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। এক মাসের মধ্যে একই হাসপাতালে দুই বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মৃতের নাম বাসুদেব নস্কর (৪৪)। তাঁর বাড়ি বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকায়। ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। স্বামীকে পুলিশ মারধর করে খুন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্ত্রী সোনালী নস্কর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। (Baruipur Hospital Death)
সোমবার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান স্ত্রী
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে বাসুদেবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন। সোমবার স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে জেলে যান সোনালী। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। (Baruipur Hospital Death) সোনালীর অভিযোগ, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, স্বামীর হাত-পা বিছানার সঙ্গে বাঁধা রয়েছে। তবে সে সময় স্বামীকে সুস্থই মনে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে স্বামীর মৃত্যুর খবর পান। (Baruipur Hospital Death)
পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনালী নস্কর। তাঁর অভিযোগ, বাসুদেবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং রক্ত জমাট বেঁধে থাকতে দেখেছেন তিনি। পুলিশ তাঁকে মারধর করেছে বলেও দাবি করেন সোনালী। তাঁর কথায়, “আমি কালকে এসে দেখে গিয়েছি, আজকে এসে শুনছি মারা গিয়েছে। ওঁরা বলছেন, বাথরুমে পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু এত জায়গায় আঘাত কীভাবে লাগল? আমি এই কথা বিশ্বাস করি না। আমি বিচার চাই।” সোনালীর দাবি, তাঁর স্বামী ভুয়ো চিকিৎসক ছিলেন না। বাসুদেবের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই নথি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন মৃতের স্ত্রী।
এক মাসে দুই বন্দির মৃত্যু
মঙ্গলবারই বাসুদেবের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গত ১৩ অক্টোবর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের বাথরুম থেকে বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বন্দির মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাসুদেবের মৃত্যুর কারণ এবং পরিবারের তোলা অভিযোগ নিয়ে এখনও পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। (Baruipur Hospital Death)











1 thought on “বারুইপুর হাসপাতালে ফের বন্দির মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা”
Comments are closed.