খাস কলকাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। কলকাতায় বেহালার সরশুনায় প্রেমের অপরাধে তরুণের বাবা, বন্ধু ও তাঁকে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ ওঠে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই ভিডিয়োই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। ঘটনার ভয়াবহতা হতবাক করেছে সকলকে। রবিবারের সেই ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত প্রেমিকার বাবা, মামা ও ঘটনায় যুক্ত আরও একজনকে। তাদের এ দিন সকালে কোমরে দড়ি বেঁধে খালি গায়ে, খালি পায়ে ঘোরাল পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তদের তাদের নিজেদের এলাকাতেই ঘোরানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ খুনের চেষ্টা, অস্ত্র দ্বারা আঘাত করা, অন্যায় ভাবে আটকে রাখা, মানহানি, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে (behala sarsuna incident)।
behala sarsuna incident: ক্ষুদিরামপল্লিতে ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজোর দিন, এক নাবালিকা ও এক যুবক একান্তে বসেছিল। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রেমিকার পরিবারের লোকজন। তারপর ওই যুবক ও তাঁর এক বন্ধুকে একটা ঘরে আটকে রাখে তাঁরা। ঘরে আটকে রেখে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে যুবতীর বাবা এবং মামা। এরপরই ডাকা হয় ওই যুবকের বাবাকে। তড়িঘড়ি করে যুবকের বাবা ঘটনাস্থলে যান (behala sarsuna incident)।
অত্যাচারিত ওই যুবকের দাবি, ওই নাবালিকার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝে মধ্যেই তাঁরা দেখা করতেন। ২৫ অক্টোবর, রাতে যুবক ওই নাবালিকার সঙ্গে দেখা করতে তার পাড়ায় যান। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা। সেই সময় প্রেমিকার হাত ধরেন যুবক। ঘনিষ্ঠ অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়ে হাতেনাতে ধরে নাবালিকার পরিবারের এক সদস্য। দু’জনকে এক সঙ্গে দেখামাত্র তিনি হুমকি দেন। নাবালিকার মামাকে ফোন করেন ওই ব্যক্তি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন নাবালিকার বাবা, মামা ও মা। তারপর বেহালার ক্ষুদিরামপল্লির একটি ঘরে আটকে রেখে তাঁদেরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
যুবকের অভিযোগ কী?
মারধরের পর যুবককে তাঁর বাবাকে ফোন করতে বলা হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় যুবকের বাবা। অভিযোগ এরপরেই তিন জনের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাঁদের বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেন ওই নাবালিকা পরিবারের সদস্যরা। যুবকের বাবাকে তিনটি শর্ত দেওয়া হয়। প্রথমটি নিজের হাতে ছেলেকে গুলি করে খুন করতে হবে। দ্বিতীয়টি, ধর্ষণের মামলার দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে জেলে যেতে হবে। তৃতীয় শর্ত ছিল, নগ্ন হয়ে ঘোরা। ওই পরিস্থিতিতে নগ্ন হয়ে ঘোরা ছাড়া কিছু বেছে নেওয়ার কথা ভাবতেও পারেনি ওই যুবক ও তাঁর বাবা। ঘটনার পরই সোমবার তরুণের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় মামলা হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় সরশুনার ক্ষুদিরামপল্লিতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, জানতে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। দুই তরুণের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা।










