পুজোর সময় টানা ১০ দিন কাজ করেও মিলছে না প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিক। এই অভিযোগে কলকাতা পুরসভায় বিক্ষোভ দেখালেন স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর সময় অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষ। সেই আশ্বাসে কাজ করলেও এখন পারিশ্রমিকের পরিবর্তে ছুটি দেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে। দ্রুত বকেয়া টাকা মেটানোর দাবিতে সরব হয়েছেন কর্মীরা। (Kolkata Municipal Corporation Health Workers Protest)
২১ বছর ধরে কাজ করেও পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা
বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্যকর্মী বিজয় বিশ্বাস জানান, গত ২১ বছর ধরে কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তাঁরা। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর ছুটির দিনগুলিতে তাঁদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এত বছর ধরে সেই কাজের বিনিময়ে দৈনিক মজুরি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পেয়ে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, ডক্টর সুব্রত রায় চৌধুরী কলকাতা পুরসভার সিএমএইচও পদে বসার পর থেকে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক কমতে শুরু করে। আগে যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় অনেক কম টাকা দেওয়া হয়েছে।কোনও ক্ষেত্রে ২৭ টাকা, আবার কোনও ক্ষেত্রে ৪৪২ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্মীদের। (Kolkata Municipal Corporation Health Workers Protest)
সার্কুলার ছাড়াই কাজের নির্দেশের অভিযোগ
বিজয় বিশ্বাসের অভিযোগ, এ বছর দুর্গাপুজোর সময় তাঁদের কোনও লিখিত সার্কুলার দেওয়া হয়নি। মৌখিক নির্দেশ এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই টানা ১০ দিন কাজ করেছেন তাঁরা। কিন্তু সম্প্রতি পুরসভার সচিবের একটি সার্কুলার সামনে আসতেই ক্ষোভ বাড়ে কর্মীদের। তাঁদের দাবি, ওই সার্কুলারে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভার অধীনে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করা অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা অতিরিক্ত কাজের জন্য কোনও টাকা পাবেন না। পরিবর্তে তাঁদের পাঁচ দিন ছুটি দেওয়া হবে। একসঙ্গে দু’দিন করে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও পাঁচ দিন একসঙ্গে ছুটি নেওয়া যাবে না। (Kolkata Municipal Corporation Health Workers Protest)
দৈনিক মজুরি অনুযায়ী টাকা দেওয়ার দাবি
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, এজেন্সির মাধ্যমে নিযুক্ত দক্ষ কর্মীরা এত বছর ধরে ছুটির দিনের কাজের জন্য পারিশ্রমিক পেয়ে এসেছেন। অথচ সরাসরি কলকাতা পুরসভার অধীনে কাজ করা অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম করা হচ্ছে। বিজয় বিশ্বাস জানান, তাঁদের দৈনিক মজুরি ৪৮৭ টাকা। সেই হিসাবে ১০ দিনের কাজের জন্য প্রত্যেকের ৪,৮৭০ টাকা পাওয়ার কথা। এই দাবিতে সরব হয়েছেন ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগের ৬৮৭ জন কর্মী। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হবে। শুধু ছুটি দিয়ে তাঁদের পাওনা মেটানো যাবে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁরা।











