ট্রেনে অনেক্ষণের যাত্রাপথ। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা দুর্বল। তার উপর যদি টিকিটে পাওয়া যায় মাঝের বা উপরের বার্থ, তাহলে যাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রবীণ বা বয়স্ক যাত্রীদের ক্ষেত্রে উপরের বার্থে ওঠানামা করা বেশ সমস্যার। তাই বয়স্ক যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিশেষ লোয়ার বার্থের ব্যবস্থা রেখেছে ভারতীয় রেল। তবে এই সুবিধা পেতে হলে টিকিট বুকিংয়ের সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। কীভাবে সহজে লোয়ার বার্থ পাওয়া যেতে পারে, তা জেনে রাখা প্রয়োজন। (Indian Railways Lower Berth Rules)
কারা পাবেন লোয়ার বার্থে অগ্রাধিকার?
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ এবং ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলারা লোয়ার বার্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারাও এই বিশেষ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। প্রবীণ নাগরিক, ৪৫ বছরের বেশি বয়সি মহিলা এবং অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক লোয়ার বার্থ রাখা হয়। স্লিপার ক্লাসের প্রতিটি কোচে সাধারণত ৬ থেকে ৭টি, থ্রি এসিতে ৪ থেকে ৫টি এবং টু এসিতে ৩ থেকে ৪টি লোয়ার বার্থ এই কোটায় বরাদ্দ থাকে। তবে কোচের সংখ্যা এবং আসনসংখ্যার উপর নির্ভর করে এই বরাদ্দে পরিবর্তন হতে পারে। (Indian Railways Lower Berth Rules)
টিকিট কাটার সময় কী করবেন?
অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের সময় যাত্রীর নাম ও বয়স সঠিকভাবে দিতে হবে। পাশাপাশি বার্থ পছন্দের জায়গায় ‘লোয়ার বার্থ’ বিকল্পটি নির্বাচন করতে হবে। বয়সের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে লোয়ার বার্থ পছন্দ করলেই যে তা নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে, এমন নয়। আসন খালি থাকা, বুকিংয়ের সময় এবং যাত্রার শ্রেণির উপর নির্ভর করেই আসন বরাদ্দ হয়। কিছু অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্মে লোয়ার বার্থ না পেলে টিকিট বুকিং বাতিল হওয়ার বিকল্পও থাকে। এই সুবিধা ব্যবহার করলে লোয়ার বার্থ না থাকলে টিকিট বুকিং নাও হতে পারে। তাই জরুরি যাত্রা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে শুধু লোয়ার বার্থের আশায় টিকিট বুকিং পিছিয়ে না দেওয়াই ভালো। আগে থেকে টিকিট কাটলে পছন্দের বার্থ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। (Indian Railways Lower Berth Rules)
যাত্রাপথে লোয়ার বার্থ পাওয়ার সুযোগ
টিকিটে মাঝের বা উপরের বার্থ পেলেও যাত্রাপথে লোয়ার বার্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনও লোয়ার বার্থ খালি থাকলে প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রী এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেক্ষেত্রে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে আসন খালি থাকা এবং রেলের নিয়ম মেনে বরাদ্দ হওয়া জরুরি। এ ছাড়া স্টেশনে প্রয়োজন হলে হুইলচেয়ার বা যাত্রীদের সহায়তার ব্যবস্থাও আগে থেকে জেনে রাখা যেতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে যাত্রা করলে টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর বার্থ নম্বর দেখে নেওয়া এবং তাঁদের কাছাকাছি আসন পাওয়ার বিষয়টিও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।












