সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসর (Compulsory Retirement) মানেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখা এবং জনস্বার্থে কোনও কর্মীকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া যেতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্তের পিছনে থাকতে হবে নির্দিষ্ট তথ্য, কর্মজীবনের নথি এবং যুক্তিসঙ্গত মূল্যায়ন।
Table of Contents
ছত্তিশগড় সরকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর
বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ ছত্তিশগড় সরকারের পাঁচ কর্মীকে (Compulsory Retirement) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০১৭ সালের সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল ছত্তিশগড় হাই কোর্টও সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
কীসের ভিত্তিতে দেওয়া যাবে বাধ্যতামূলক অবসর?
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও কর্মীর কর্মজীবনের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (ACR), সততা, কাজের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা এবং সামগ্রিক সার্ভিস রেকর্ড খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মনে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে চাকরিতে বহাল রাখা আর জনস্বার্থের পক্ষে উপযুক্ত নয়। তবে অনুমান, ব্যক্তিগত ইচ্ছা কিংবা খামখেয়ালিপনার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। (Compulsory Retirement)
অন্য কর্মী অবসর না পেলে বৈষম্যের অভিযোগ নয়
আবেদনকারী কর্মীদের দাবি ছিল, একই ধরনের সার্ভিস রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও অন্য কর্মীদের (Compulsory Retirement) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়নি। এই যুক্তি খারিজ করে আদালত জানায়, প্রত্যেক কর্মীর কর্মদক্ষতা, সততা ও উপযোগিতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সমতার অধিকার থাকলেও, অন্য কারও ক্ষেত্রে কোনও ভুল বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তার ভিত্তিতে একই সুবিধা দাবি করা যায় না।
কখন হস্তক্ষেপ করতে পারবে আদালত?
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আদালত নতুন করে তথ্যের মূল্যায়ন করবে না। তবে সিদ্ধান্তটি কোনও প্রমাণ ছাড়াই নেওয়া হলে, কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে নথি বিবেচনা না করলে, স্বেচ্ছাচারিতা, অসৎ উদ্দেশ্য বা পক্ষপাতের প্রমাণ থাকলে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ সম্ভব।
১৪ -র মধ্যে অবসর পাঁচজনের
আদালত জানিয়েছে, ছত্তিশগড় সরকারের স্ক্রিনিং কমিটি ১৪ জন কর্মীর সার্ভিস রেকর্ড খতিয়ে দেখে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের কর্মদক্ষতা, সাম্প্রতিক গোপনীয় রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক উপযোগিতা নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে ছিল। বাকি নয়জনকে চাকরিতে বহাল রাখার উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়। গোটা প্রক্রিয়ায় একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। (Compulsory Retirement)













