দীপাবলি আসলে বিজয়ী উৎসব। লঙ্কাকাণ্ডের পর রাবণকে পরাজিত করে শ্রীরামচন্দ্র এদিন অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে অকাল বোধন করে দুর্গাপুজো করেছিলেন রাম। সেইসময় থেকে শরৎ-এ শুরু হলো দুর্গাপুজো। তেমনই, রামচন্দ্র লঙ্কা জয় করে অযোধ্যায় ফিরে আসার দিন দীপাবলি পালিত হলো। আর তবে থেকেই, শরৎকালের কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই আলোর উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পুরাণে এই দীপাবলি শুরু হওয়ার পিছনে আরও অনেক রহস্যময় গল্প রয়েছে (Dipabali)।
Dipabali: প্রত্যাবর্তনের কাহিনি
মহাভারতে, কৌরবদের সঙ্গে পাশা খেলায় হেরে ১২ বছর বনবাস এবং ১ বছর অজ্ঞাতবাস কাটানোর পর পঞ্চ পাণ্ডব এই বিশেষ দিনে হস্তিনাপুরে ফিরে এসেছিলেন। তাঁদের আগমনে আনন্দিত প্রজারা গোটা রাজ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে চারিদিক আলোকময় করে তুলেছিলেন। পঞ্চ পাণ্ডবদের এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘটনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয়, বরং নৈতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের প্রতীক (Dipabali)।
নরকাসুর বধ
হিন্দু পুরাণ (যেমন—বিষ্ণু পুরাণ ও কালিকা পুরাণ) অনুসারে, দ্বাপর যুগে দোর্দণ্ডপ্রতাপ অসুর রাজা নরকাসুর মর্ত্য ও স্বর্গলোক দখল করে ১৬,০০০ দেবকন্যাকে বন্দি করেছিল। এই অমাবস্যার আগের তিথিতে (যা বর্তমানে ভূত চতুর্দশী বা নরক চতুর্দশী নামে পরিচিত) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী সত্যভামা নরকাসুরকে বধ করে অত্যাচার থেকে সবাইকে মুক্ত করেন। এই বিজয়ের আনন্দে পরের দিন প্রদীপ প্রজ্বলন করে এই উৎসব পালন হয়।
দেবী লক্ষ্মীর জন্ম ও সমুদ্র মন্থন
পুরাণ অনুযায়ী, ক্ষীরোদ সমুদ্র মন্থনের সময় এই দীপাবলির দিনে ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মী অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্য একটি লোকগাথা অনুযায়ী, এই রাতেই দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুকে নিজের স্বামী হিসেবে বরণ করেন। তাই দীপাবলিতে লক্ষ্মী পুজোর বিশেষ চল রয়েছে।
বামন অবতার ও রাজা বলি
বিষ্ণু পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণু তাঁর ‘বামন’ অবতারে দানবরাজ বলির দর্প চূর্ণ করে তাঁকে পাতালে পাঠিয়েছিলেন। প্রজাদের বলির এই চরম আত্মত্যাগ ও বিনয় দেখে বিষ্ণু খুশি হন। তিনি বলিকে হত্যা না করে পাতালের অধিপতি করে দেন এবং মর্ত্যে ফিরিয়ে আনেন। আর প্রজারা তাঁদের প্রিয় রাজার ফেরার আনন্দেই প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসব করতেন। এদিন থেকে পালিত হয় দীপাবলি।














