কালীপুজো মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা রকমের প্রতিমা, আলোর সাজ আর প্যান্ডেলের জাঁকজমক। কিন্তু কাটোয়ায় এমন এক কালীপুজো হয়, যেখানে নেই কোনও মৃন্ময়ী প্রতিমা, নেই দেবীর প্রচলিত মূর্তি। (Katwa Jhupo Kali) একটি প্রাচীন নিমগাছকেই দেবী কালীর রূপে পুজো করেন ভক্তরা। প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই ব্যতিক্রমী প্রথা। গভীর ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে পুজোর প্রচলন থেকেই দেবীর নাম হয়েছে ‘ঝুপো কালী’। আজও এই পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ।
Table of Contents
নিমগাছেই দেবীর অধিষ্ঠান
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই প্রাচীন পুজো। (Katwa Jhupo Kali) এখানে কোনও মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করা হয় না। একটি প্রাচীন নিমগাছকেই দেবী কালীর প্রতীক হিসেবে কল্পনা করে চলে পুজো-অর্চনা। বছরের পর বছর ধরে একই নিয়মে পালিত হয়ে আসছে এই ঐতিহ্য। কালীপুজোর দিন নতুন বেনারসি শাড়িতে সাজিয়ে তোলা হয় দেবীকে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে পুজো।
ডাকাতদের আস্তানা, নাকি বিপ্লবীদের গোপন ডেরা?
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকা ছিল ডাকাতদের আস্তানা। আবার অনেকের মতে, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবীদের গোপন ডেরা হিসেবেও পরিচিত ছিল জায়গাটি। সেই ইতিহাসের নানা কাহিনি আজও ঘিরে রেখেছে (Katwa Jhupo Kali) ঝুপো কালীর পুজোকে। সময়ের সঙ্গে জঙ্গল আর আগের মতো নেই। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই প্রাচীন নিমগাছ।
পুজোর শাড়িতে মেটে দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের বিয়ে
(Katwa Jhupo Kali) এই পুজোর অন্যতম মানবিক দিক হল শাড়ি বিতরণের প্রথা। ভক্তদের দেওয়া নতুন বেনারসি শাড়ি দুঃস্থ পরিবারের বিবাহযোগ্য কন্যাদের বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। তাই ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও নজির গড়েছে এই পুজো। প্রতিমা ছাড়া এমন ব্যতিক্রমী কালীপুজো দেখতে প্রতি বছরই কাটোয়া-সহ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।













