লাদাখের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সামরিক শক্তি ও পরিবহণ ক্ষমতা আরও বাড়াল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে, ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে সফল অবতরণ করল ভারতীয় বায়ুসেনার ভারী পরিবহণ বিমান IL-76MD। এই ঐতিহাসিক অবতরণের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে বায়ুসেনা। উত্তর সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও সামরিক রসদ পরিবহণের ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Table of Contents
১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় নজিরবিহীন অবতরণ
13,629 FEET. A NEW HEIGHT IN AVIATION HISTORY. An Indian Air Force IL-76MD has scripted history with a successful landing at Nyoma, marking the highest-altitude landing ever achieved by the aircraft anywhere in the world. A remarkable demonstration of the aircraft’s enduring capability, backed by the exceptional skill, precision, and professionalism of its crew. A milestone that reinforces India’s strategic airlift capability. Pushing boundaries. Redefining limits. Making history. #IndianAirForce #IAF #Nyoma #AviationHistory #IndianDefence @DefenceMinIndia @SpokespersonMoD @HQ_IDS_India @adgpi @indiannavy @CareerinIAF @air_veterans
— Indian Air Force (@IAF_MCC) November 7, 2026
শনিবার সমাজমাধ্যমে এই সাফল্যের কথা জানায় ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। তাদের বক্তব্য, (IL-76MD) বিমানটির ক্রুদের অসাধারণ দক্ষতা, নির্ভুলতা এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে এই অভিযান। পাশাপাশি ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
কেমন এই নিয়োমা বিমানঘাঁটি?
লেহ থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিয়োমা। গত বছর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এই বিমানঘাঁটি চালু হয়। আগে এখানে কাদামাটির রানওয়ে ছিল। সেখানে মূলত AN-32 পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টার ওঠানামা করত। বর্তমানে এটি ভারী বিমান ও যুদ্ধবিমান পরিচালনার উপযোগী ঘাঁটি। (IL-76MD)
বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (BRO) ‘প্রজেক্ট হিমাঙ্ক’-এর অধীনে তৈরি হয়েছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ কংক্রিটের রানওয়ে। মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও যাতে রানওয়ে কার্যকর থাকে, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
লাদাখে সামরিক কৌশলে বাড়তি সুবিধা
লাদাখে লেহ, থোইসে এবং কারগিলের মতো পাকা রানওয়েযুক্ত বিমানক্ষেত্র রয়েছে। পাশাপাশি ফুকচে ও দৌলত বেগ ওল্ডিতে রয়েছে উন্নত অবতরণ ক্ষেত্র। দৌলত বেগ ওল্ডির রানওয়ে প্রায় ১৬,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। নিয়োমায় ভারী বিমান ওঠানামার সুবিধা তৈরি হওয়ায় উত্তর সীমান্তে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছে দেওয়ার সময় অনেকটাই কমবে। (IL-76MD)
চিন সীমান্তে বাড়বে ভারতের সামরিক সুবিধা?
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালে চালু হয় লাদাখের নিয়োমা বিমানঘাঁটি। ২০২১ সালে এই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানঘাঁটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২১৪ কোটি টাকা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-এর কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে এই ঘাঁটির গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে চিন সীমান্তের কাছে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন, অস্ত্রশস্ত্র ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমানঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থলপথে যাতায়াত কঠিন হলে দ্রুত সামরিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা আরও বাড়বে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ IL-76MD?
রাশিয়ার তৈরি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট IL-76 বিমান ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রায় ৪৫ টন পর্যন্ত মালপত্র বহনে সক্ষম এই বিমান অতীতে লাদাখ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ট্যাঙ্ক এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে IL-76 বিমানগুলিকে চণ্ডীগড়ে ৪৪ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধীনে রাখা হয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যান্য পরিবহণ বিমানের মধ্যে রয়েছে C-130, AN-32, C-295 এবং Dornier-228। ফলে নিয়োমায় IL-76MD-র অবতরণ শুধু একটি বিমানঘাঁটির সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং ভারতের উত্তর সীমান্তে সামরিক পরিবহণ পরিকাঠামো আরও মজবুত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।













