এবার বিপজ্জনক তথ্য দিল পরিবেশ দফতর, যা শুনলে আপনারও চোখ কপালে উঠবে। বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে চিকিৎসক সংযুক্তা দত্ত অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন কমবেশি ১৫-২০টি সিগারেট ধূমপানের সমান বিষ নিজেদের অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে। প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই একই ঘটনা ঘটছে (kolkata kali puja air pollution)।
kolkata kali puja air pollution: কী বলছেন চিকিৎসক?
তিনি বলেন, “সহজভাবে বোঝাতে গেলে, কালীপুজোর দিনে শহরের দূষণের যে অবস্থা দাঁড়ায়, তাতে সদ্যোজাত এক বাচ্চাকে যদি টানা ১৫ থেকে ২০টা সিগারেট খাওয়ানো হয়— পরিস্থিতি ঠিক তেমনই তৈরি হয়। বায়ুদূষণের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন কমবেশি ১৫-২০টি সিগারেট পানের সমান বিষ নিজেদের অজান্তেই শরীরে নিচ্ছি। প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই একই ঘটনা ঘটছে। তা সে ধনী হোক বা গরিব।”
কিন্তু কীভাবে? বিগত ৩ বছরের কালীপুজোর দিনের বায়ুদূষণের সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) নজর করলে দেখা যায়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে শুরু করে রবীন্দ্র সরোবর বা যাদবপুর— একাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই দূষণের মাত্রা অনুমোদনের লিমিটের থেকে বহুগুণ বেড়ে যায়। বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM 2.5 এবং PM 10)-এর মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, সাধারণ শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়ে।
নিষিদ্ধ বাজি পোড়ানো এবং আলোর উৎসবে লাগামহীন বায়ুদূষণের জেরে পরিস্থিতি পৌঁছে যায় চরম আশঙ্কাজনক জায়গায়। গত ৩ বছরের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কালীপুজোর দিন ও তার পরবর্তী সময়ে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী শহরতলির বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ নিয়েইএক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেছেন চিকিৎসক সংযুক্তা দত্ত।
তিনি বলেন, “প্রতি বছর শীতের শুরুতেই আমাদের এই সতর্কবার্তা দিতে হয়। কারণ বছরের এই সময়টাতে কলকাতার বাতাসে বিষের মাত্রা আশঙ্কাজনক জায়গায় পৌঁছয়। বায়ুদূষণের কথা উঠলেই সবাই দিল্লির দিকে তাকান। সার্বিকভাবে সারা বছরের হিসেবে দিল্লি শীর্ষস্থানে থাকলেও, শীতকালে এবং বিশেষ কিছু উৎসবের দিনে দিল্লির ঠিক পাশেই এসে দাঁড়ায় তিলোত্তমা কলকাতাও।”













