ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

রক্ষণের দুর্বলতা শুধু নয়, হাবাসের স্ট্র্যাটেজিও কাঠগড়ায়, কোন ভুলে ৫ গোল খেল ইস্টবেঙ্গল?

Published on: November 8, 2026
East Bengal FC
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী

যে কোনও দীর্ঘ ফুটবল লিগে একটা ম্যাচে হারটাই শেষ কথা নয়। পরিসংখন বলে ২০১৫ সালে, এই আইএসএল প্রতিযোগিতাতেই শুরুতেই পর পর তিন ম্যাচে হারা দল, শিরোপা জিতে নিয়েছিল। হ্যাঁ সেই দলটার নাম ছিল এই চেন্নাইন এফসি। তাই (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের সেই চেন্নাই এফসির কাছ এবারের প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ম্যাচে হারটা হয়তো “সব আশা শেষের” ইঙ্গিত একেবারই নয়। কিন্তু এটা তো ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ভারতের কোনও প্রতিযোগিতাতেই কোনও ম্যাচে হার, তারা মেনে নেয় না। তাদের অভিধানে একটাই কথা লেখা আছে, “ইস্টবেঙ্গল মাঠে নামে ম্যাচ জিততেই”।

কিন্তু যে ভাবে তারা ৭ নভেম্বর চেন্নাইয়ের মাঠে, চেন্নাইন এফসির কাছে ৫-৩ গোলে হারল, তা একটা জিনিস প্রমাণ করে দিয়ে গেল যে, এদেশে আসা সব ইউরোপীয় কোচ যে বলেন, “দল খেলবে, কোনও এক খেলোয়াড় নয়” সেটা একটা মিথ। কারণ আনোয়ার আলির অভাব সারা খেলায় দগদগে হয়ে ফুটে উঠল।

আনোয়ার আলির অভাবেই কী ভেঙে পড়ল রক্ষণ?

ইতিহাস বলে, ফুটবলে চোট আঘাত থাকবেই। তার ফলে দরকার পড়লে সঠিক জায়গায় সঠিক পরিবর্ত নির্বাচন করার মতো চিন্তা থাকবে কোচের। এ ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেস হাবাস যে এখনও তেমন আশা জাগাতে পারেনেনি তা হয়তো বলা যেতেই পারে।

(East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গল ক্লাবেই পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় নামে একজন কোচ ছিলেন। যিনি কি না হাফের খেলোয়াড় কাজল মুখোপাধ্যায়কে লেফট ব্যাকে খেলিয়ে রোভার্স জিতে এনেছিলেন। এমনকি এই শতাব্দীতেই ট্রেভার জেমস মরগ্যান একের পর এক ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ বার করে নিয়েছেন পরিবর্তিত খেলোয়াড়কে সঠিক জায়গায় খেলিয়ে।

কিন্তু এবারের ইস্টবেঙ্গল দলে রক্ষণভাগে কিছু মুশকিল প্রথম থেকেই দেখা যাচ্ছিল। যে ভাবে তারা এসিএল ২-র ম্যাচে গোল খেয়েছিল তাতে আশা করি কোচ হাবাস বুঝতে পেরেছিলেন কোথাও যেন রক্ষণে একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। কিন্তু কোচ হাবাস সেই দিকে ঠিকমত নজর যে দেননি তা তো এই ম্যাচে আরও প্রকট হলো। (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গল যে আইএসএলের তৃতীয় ম্যাচে চেন্নাইন এফসির কাছে ৫ গোলই খেল না, তার সঙ্গে দেখা গেল বার বার রক্ষণ সংগঠনের বড় ধরনের ত্রুটি। কোচ বুঝলেন সে কথা, তবে বড্ড দেরি করে। কারণ প্রথমে সন্দীপ মান্ডিকে ব্যাকে নামিয়ে, পরে লালচুননুঙ্গাকে সরিয়ে তাঁকে করলেন স্টপার।

বেঞ্চের বিকল্পদের ব্যবহারে কী ব্যর্থ হাবাস?

মার্তন রায়নার বদলে যে নবীন স্টপারকে রাখা হয়েছে তাঁকে কি শুধু সাইড বেঞ্চে বসানোর জন্যই? নাকি সে একজন “অনুরধের আসরের” প্রতিনিধি। কেনই বা বরিস সিংকে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে আনা হলো? যদি না সে খেলার অবস্থায় থাকে। মাননীয় কোচ দরকার পড়লে জিক্সনকেও মাঝে মাঝে স্টপার খেলিয়েছেন। অন্যদিকে যারা দল নির্বাচন করেছেন তাদের দায়িত্ব নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। অ্যালেক্স সাজির মতো প্রতিশ্রুতিমান স্টপার কীভাবে মোহনবাগানে বসে থাকে। এই বছরেই কলকাতা লিগে যে (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গল দল খেলেছিল, তাদের থেকে কি মনোতোষ মাঝি, মনোতোষ চাকলাদার বা অঙ্কন ভট্টাচার্যকে আইএসএল দলের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা নেওয়া যেত না?

বিগত দিনের এক প্রখ্যাত খেলোয়াড় একবার বলেছিলেন, “এখনকার সব কলকাতায় আসা বিদেশী কোচেরা, তারা তাদের দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সব থেকে ভালো খেলা বার করে নিতে হয়তো দক্ষ, কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের ভুল ত্রুটি শুধরে দিয়ে, কীভাবে তাকে দলের উপযোগী করে তুলতে পারা যায়, সে ব্যপারে তাদের দক্ষতা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়।”


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now