দেশজুড়ে E20 পেট্রোল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে এবার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। (E20 Petrol Myths) ইঞ্জিনের ক্ষতি, অতিরিক্ত জল ব্যবহার, বীমা বাতিল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে পরিবেশ দূষণের মতো একাধিক অভিযোগকে খারিজ করে শুক্রবার ১০ দফা ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। (E20 Petrol Myths) সরকারের দাবি, E20 বা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
(E20 Petrol Myths) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচারে দাবি করা হয়েছিল, এক লিটার ইথানল উৎপাদনে ১০ হাজার লিটার জল খরচ হয়। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত চালই ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, বর্তমানে ইথানল উৎপাদনকারী ডিস্টিলারিগুলিতে প্রতি লিটার ইথানল উৎপাদনে গড়ে মাত্র ৩ থেকে ৫ লিটার প্রক্রিয়াজাত জল ব্যবহৃত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে জল পুনর্ব্যবহার করা হয়।
সরকার আরও জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ইথানল সরবরাহের ৪০ শতাংশেরও বেশি আসছে ভুট্টা থেকে, যা ধানের তুলনায় অনেক কম সেচনির্ভর। ভুট্টা চাষকে উৎসাহ দিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
𝐏𝐫𝐞𝐬𝐬 𝐂𝐨𝐧𝐟𝐞𝐫𝐞𝐧𝐜𝐞 𝐛𝐲 𝐈𝐧𝐝𝐮𝐬𝐭𝐫𝐲 𝐄𝐱𝐩𝐞𝐫𝐭𝐬 𝐨𝐧 𝐄𝐭𝐡𝐚𝐧𝐨𝐥
— All India Radio News (@airnewsalerts) July 4, 2026
This ethanol blending in petrol has been not done overnight. It is a measured, scientifically driven, step-by-step process.
In 2013 and 2014, we were blending about one and a half per cent… pic.twitter.com/XnETNyBsLr
E20 একটি পরীক্ষামূলক জ্বালানি—এই দাবিও নস্যাৎ করেছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের দাবি, আমেরিকা, ব্রাজিল, কানাডা, থাইল্যান্ড, জাপান এবং ইউরোপের একাধিক দেশে বহু বছর ধরেই বিভিন্ন মাত্রায় ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে।
(E20 Petrol Myths) গাড়ির পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে সরকার জানিয়েছে, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (ARAI)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত পরীক্ষায় যাত্রিবাহী গাড়িতে প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার এবং দুই চাকার যানবাহনে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার চালিয়ে দেখা হয়েছে। সেই পরীক্ষায় গাড়ির কার্যক্ষমতা বা জ্বালানি দক্ষতার উপর উল্লেখযোগ্য কোনও নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। বরং, ইথানলের উচ্চ অকটেন মানের কারণে E20 উপযোগী ইঞ্জিন আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
(E20 Petrol Myths) ইঞ্জিন বা যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগেরও জবাব দিয়েছে কেন্দ্র। ARAI, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়াম এবং সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের যৌথ গবেষণায় ধাতব ও প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশে কোনও বিরূপ প্রভাব পাওয়া যায়নি। যদিও পুরনো গাড়ির কিছু রাবার অংশ তুলনামূলক দ্রুত বদলাতে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
❌ Myth: Insurance claims will be rejected if E20 is used
— PIB India (@PIB_India) July 4, 2026
✅Fact:
The automobile industry has aligned vehicles with prescribed ethanol-blending standards. The use of approved E20 fuel does not void the manufacturer's warranty because ethanol-blended petrol is used. pic.twitter.com/vxILDXW6DQ
এছাড়াও, E20 ব্যবহারে গাড়ির ওয়ারেন্টি বা বিমা বাতিল হয়ে যাবে—এই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। মন্ত্রকের বক্তব্য, E20-অনুমোদিত বা E20-সক্ষম যানবাহনের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও বিমা পরিষেবা যথারীতি বহাল থাকবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি? এই ভুলগুলো করেননি তো?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘E20 পেট্রোলে পিঁপড়ে ও মৌমাছি আকৃষ্ট হয়’—এই দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। (E20 Petrol Myths) সরকারের ব্যাখ্যা, জ্বালানিতে ব্যবহৃত ইথানলে কোনও অবশিষ্ট চিনি থাকে না এবং এতে এমন ডিন্যাচারেন্ট থাকে যা পোকামাকড় দূরে রাখে। পাশাপাশি পেট্রোলের হাইড্রোকার্বনের গন্ধই মিশ্র জ্বালানিতে প্রাধান্য পায়।
সুপ্রিম কোর্টে সরকার E20-কে ‘পরীক্ষামূলক প্রকল্প’ বলেছে—এই দাবিও সরাসরি খারিজ করেছে কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, আদালতে আলোচনার বিষয় ছিল ইথানল ক্রয়ের চুক্তিগত শর্তাবলি, E20 প্রকল্পের কার্যকারিতা নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরও এ বিষয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে ভুল বলে স্পষ্ট করেছে।
জ্বালানির ট্যাঙ্কে জল প্রবেশের ঝুঁকির অভিযোগের বিরুদ্ধে সরকারের দাবি, আধুনিক যানবাহন এবং পেট্রোল পাম্পের পরিকাঠামোয় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। একইসঙ্গে, আখের রস পেট্রোলে মেশানোর ভাইরাল ভিডিয়োগুলিকে ‘মনগড়া’ এবং ‘ভুয়ো’ বলে অভিহিত করেছে কেন্দ্র।
পরিবেশগত প্রভাবের প্রশ্নে সরকার জানিয়েছে, ইথানল উৎপাদনকারী কারখানাগুলিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহারের অনুমোদন এবং জিরো লিকুইড ডিসচার্জ নীতি মেনে চলতে হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির ফলে ১.৯ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, কৃষকদের ১.৬ লক্ষ কোটিরও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে, প্রায় ৯৩০ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে এবং ৩১০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ইথানল মিশ্রণের হার ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ, বর্তমানে দেশের ইথানল উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২,০০০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইথানল সংগ্রহের পরিমাণ ১,২০,০০ কোটি লিটার ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা করছে কেন্দ্র।
ইরানে খামেনেইর শেষযাত্রা শুরু, তেহরানে জনসমুদ্র; প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর শোকসভা











