২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার মধ্যে ছিল মহিলাদের জন্য লক্ষ্মী ভাণ্ডার ( Laxmir Bhandar) প্রকল্পে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা। সাধারণ শ্রেণীভুক্ত মহিলাদের টাকার পরিমান ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছিল ও তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০০ টাকায়।
সেই মতোই ঘোষণার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বাড়তি টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করেছে। শনিবার অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশের সময়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, আগের নির্ধারিত অঙ্কের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা যোগ করা হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। এটার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়ছে। চলতি মাসের কিস্তির টাকা পাঠানোর কাজ শনিবারের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
বাজেট ভাষণে জানানো হয়, ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা জোরদার করতে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় কয়েক কোটি মহিলা উপভোক্তা নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
বাজেট ঘোষণার পর থেকেই উপভোক্তারা কবে বাড়তি টাকা মিলবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। ঘোষণার একদিন পর থেকে সেই বাড়তি অর্থ মিলতে শুরু করায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বহু মহিলা উপভোক্তা। অনেকেরই অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই বাড়তি ৫০০ টাকা জমার মেসেজ পৌঁছেছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার ও প্রয়োজনীয় নথির যুক্ত রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ছাড়াই টাকা জমা পড়বে। তবে কারও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস বা দুয়ারে সরকার শিবিরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের সংসারের দৈনন্দিন খরচে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের বাজেটে বাড়তি বরাদ্দের ফলে এই সহায়তার পরিমাণ আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।











