ভারতের অধিকাংশ হিন্দু মন্দিরে দেবতার উদ্দেশে নিরামিষ ভোগ নিবেদনই প্রচলিত রীতি। সেই ভোগই পরে প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এই প্রচলিত ধারণার বাইরে দেশের কয়েকটি প্রাচীন শক্তিপীঠ ও তান্ত্রিক উপাসনাকেন্দ্রে আজও দেব-দেবীর উদ্দেশে মাছ বা মাংস নিবেদন করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রসাদ হিসেবেই গ্রহণ করেন ভক্তরা। শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং তান্ত্রিক সাধনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক ভারতের এমনই পাঁচটি মন্দিরের কথা, যেখানে নিরামিষ নয়, আমিষ প্রসাদই বিশেষ ঐতিহ্য।
Non-veg bhog: কামাখ্যা মন্দির, গুয়াহাটি (অসম)
অসমের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ। পুরাণ অনুযায়ী, এই স্থানেই পতিত হয়েছিল দেবী সতীর যোনি। তাই এই মন্দির মাতৃত্ব ও নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর অম্বুবাচি উৎসবের সময় টানা তিন দিন মন্দির বন্ধ থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সময় দেবী কামাখ্যা ঋতুমতী হন। এরপর মন্দিরের দরজা খুললে বিশেষ প্রসাদ হিসেবে পাঁঠার মাংস ও মাছের চাটনি ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই প্রথা মন্দিরের তান্ত্রিক উপাসনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

মুনিয়ান্ডি স্বামী মন্দির, ভাদাক্কামপট্টি (তামিলনাড়ু)
মাদুরাইয়ের কাছে ভাদাক্কামপট্টিতে অবস্থিত এই মন্দিরটি ভগবান মুনিয়ান্ডির উদ্দেশে নির্মিত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তিনি শিবেরই এক রূপ। প্রতিবছর বিশেষ উৎসবে হাজার হাজার ভক্ত এখানে সমবেত হন। সেই সময় বিশাল বড় বড় হাঁড়িতে চিকেন ও মটন বিরিয়ানি রান্না করা হয় এবং সকালেই তা প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ভক্তদের কাছে এই পবিত্র প্রসাদ গ্রহণ পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় আচার ও স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায় এই মন্দিরে।
পারাস্সিনিক্কাডাভু মুথাপ্পন মন্দির, কন্নুর (কেরল)
কেরলের কন্নুর জেলার এই মন্দিরে অধিষ্ঠিত ভগবান মুথাপ্পন। মুথাপ্পন উপাসনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল লোকনৃত্য ‘থেয়্যম’। বিশেষ করে জেলে ও কৃষিজীবী মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে এই মন্দিরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এখানে ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে ভাজা মাছ ও টোডি দেওয়া হয়। এই ভোগ স্থানীয় জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আরও একটি বিশেষ দিক হলো এই মন্দিরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রবেশ ও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তারাপীঠ মন্দির, বীরভূম (পশ্চিমবঙ্গ)
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ তান্ত্রিক সাধনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে মা তারার পুজো হয়, যাঁকে দেবী কালীর উগ্র রূপ হিসেবে মানা হয়। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পাঁঠার মাংস, মাছ-সহ বিভিন্ন আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে সেই ভোগই প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

বিমলা মন্দির, পুরী জগন্নাথ মন্দির চত্বর (ওডিশা)
ওডিশার পুরীর জগন্নাথ মন্দির চত্বরে অবস্থিত বিমলা মন্দিরের নিজস্ব এক অনন্য প্রথা রয়েছে। এখানে দেবী বিমলার পুজো হয়, যিনি দেবী দুর্গারই এক রূপ। মার্কণ্ড পুষ্করিণী থেকে ধরা মাছ এবং পাঁঠার মাংস দেবীর উদ্দেশে নিবেদন করা হয়। পরে সেই ভোগ ‘বিমলা প্রসাদ’ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এই আচার জগন্নাথ মন্দিরের মূল দরজা খোলার আগেই সম্পন্ন হয়, যা একই মন্দির চত্বরে প্রচলিত এক ঐতিহ্য।
কেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে শোনা যায় না সমুদ্রের গর্জন? জেনে নিন অলৌকিক কাহিনি












