সৈকত শহর পুরী। আর এই সমুদ্র ঘেরা পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে নানা অলৌকিক বিশ্বাস ও পুরাণকথা প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো – মন্দিরের এত কাছে সমুদ্র থাকা সত্ত্বেও এই মন্দিরের ভিতরে সমুদ্রের গর্জন কখনও শোনা যায় না। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনি। (Puri Jagannath Temple)
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, একবার দেবর্ষি নারদ জগন্নাথদেবের দর্শনের জন্য পুরীতে যান। সেই সময় মন্দিরের প্রবেশদ্বারে পাহারায় ছিলেন বজরংবলী হনুমান। মন্দিরে প্রবেশ করে নারদ মুনি দেখেন, জগন্নাথদেব যেন কিছুটা অশান্ত ও উদ্বিগ্ন। কারণ জানতে চাইলে প্রভু জানান, সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের গর্জনে তাঁর মন বারবার বিচলিত হয়ে পড়ছে। সেই শব্দের কারণে তিনি একাগ্রচিত্তে ধ্যানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।
মন্দির থেকে বেরিয়ে নারদ মুনি এই বিষয়টি হনুমানকে জানান। প্রভুর কষ্টের কথা শুনে বজরংবলী সঙ্গে সঙ্গেই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেন। প্রথমে তিনি সমুদ্রতীরে গিয়ে সমুদ্রদেবের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে ঢেউয়ের গর্জন কিছুটা কমানো হয়। তবে সমুদ্রদেব জানান, সমুদ্রের ঢেউ এবং তার গর্জনের উপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এই শক্তি মূলত পবনদেবের অধীনে। এরপর হনুমান পবনদেবের কাছে গিয়ে একই অনুরোধ জানান। (Puri Jagannath Temple)
পবনদেব তখন বলেন, সমুদ্রের গর্জন কমাতে হলে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে। যে দিক থেকে হাওয়া বইছে, তার বিপরীত দিক থেকে আরও শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ তৈরি করা গেলে সমুদ্রের গর্জন অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে।
জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগের অন্যতম ‘টঙ্কা তোরানি’, গরমে মন জুড়িয়ে দেয় টক-ঝাল এই প্রসাদ
পবনদেবের পরামর্শ মেনে বজরংবলী বিপরীত দিকে প্রবল বেগে উড়তে শুরু করেন। তাঁর সৃষ্টি করা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের দিক থেকে আসা শব্দকে জগন্নাথ মন্দিরের দিকে পৌঁছতে বাধা দেয়। সেই থেকেই, পুরাণ মতে, জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে সমুদ্রের গর্জন আর শোনা যায় না। (Puri Jagannath Temple)
এই কাহিনির সঙ্গেই আরও একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। বলা হয়, হনুমানের সেই অলৌকিক শক্তির প্রভাবেই জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় থাকা ধ্বজাও সবসময় বাতাসের স্বাভাবিক গতির বিপরীত দিকে উড়তে দেখা যায়।
যদিও এই ঘটনাগুলির বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে, তবুও ভক্তদের কাছে এই পুরাণকাহিনি আজও গভীর বিশ্বাস ও ভক্তির প্রতীক হয়ে রয়েছে। পুরীর জগন্নাথ ধামকে ঘিরে এই কিংবদন্তি আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে একই রকম বিস্ময় ও শ্রদ্ধার জন্ম দেয়।












