চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করার সাহস সবার থাকে না। তবে সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে ছোট ব্যবসাও যে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, তারই এক উদাহরণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। মাসে ৩৮ হাজার বেতনের চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান খুলে এখন সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও মাসে প্রায় ১ লাখ আয় করছেন এক ব্যক্তি। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন প্রতিবেশী।
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডলে এমনই একটি ঘটনা শেয়ার করেছেন অঙ্কিত পাণ্ডে। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর এক প্রতিবেশী মিষ্টির বাক্স নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, নিজের ব্যবসা আরও বড় করার আনন্দেই সকলকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। অঙ্কিতের দাবি, তাঁর ওই প্রতিবেশী আগে একটি টেলিপারফরম্যান্স সংস্থায় কাজ করতেন। সেখানে মাসে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা বেতন পেতেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, চাকরি ছেড়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। (Viral X Post)
Today my neighbour rang my doorbell and handed me a box of sweets.
— Ankit Pandey (@iamankitpande) July 18, 2026
We hardly meet because of our busy schedules.
A few months ago, he was working at Teleperformance, earning around ₹38,000 a month.
In May, he resigned.
Everyone thought he was making a mistake.
Instead, he…
কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর প্রায় ২ লাখ বিনিয়োগ করে একটি অটোস্ট্যান্ডের কাছে চায়ের দোকান খোলেন। দোকানে চা তৈরি ও পরিবেশনের জন্য দু’জন মহিলা কর্মীকেও নিয়োগ করেন। মেনুতে ছিল ২ ধরনের চা। একটি ১০ টাকার সাধারণ চা, আর একটি প্রিমিয়াম চা ২০ টাকা। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন এই চায়ের দোকান থেকে আর কতই বা আয় হবে। কিন্তু অঙ্কিতের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন ওই দোকানেই প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হয়। আর তা থেকে মাসে প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি আয় হয়।
তবে শুধু বিক্রি হলেই তো চলে না, দোকান চালানোর খরচও কম নয়। প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার দোকানভাড়া, ৩০ হাজার কর্মীদের বেতন এবং ইলেকট্রিক বিল ও চা বানানোর সরঞ্জাম বাবদ আরও প্রায় ২৫ হাজার খরচ হয়। তবে সব খরচ মিটিয়েও একটিমাত্র দোকান থেকেই মাস শেষে তাঁর হাতে থাকে প্রায় ১ লাখ টাকা।
এতেই থেমে থাকেননি ওই ব্যবসায়ী। চায়ের পাশাপাশি সম্প্রতি দোকানে ওই বড়া পাও, সিঙ্গারাও জিলিপির কাউন্টারও চালু করেছেন। সেই নতুন উদ্যোগের আনন্দ ভাগ করে নিতেই তিনি প্রতিবেশীদের মিষ্টি খাইয়েছেন বলে জানান অঙ্কিত। (Viral X Post)
এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অঙ্কিত লেখেন, যদি তাঁর প্রতিবেশী চাকরিতেই থেকে যেতেন, তাহলে হয়তো এখনও ৩৮ হাজার বেতনেই পরবর্তী ইনক্রিমেন্টের অপেক্ষা করতেন। কিন্তু অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে বড় ইনক্রিমেন্টটা নিজেকেই নিজেকে দিতে হয়। এই শিক্ষা অঙ্কিতকে দিয়েছেন তাঁরই প্রতিবেশী। পোস্টের শেষে অঙ্কিত সকলের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্নও ছুড়ে দেন, “আপনি যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে আরও বড় কিছু গড়ে তুলতে পারবেন, তাহলে কি ৩৮ হাজার টাকার চাকরি ছেড়ে দিতেন?”
Zomato-Swiggy তে কাজ করলেও মিলবে PF, বড় পরিকল্পনা EPFO-র
সত্যিই তো আমাদের অনেকের মনেও হয়ত এরকম ছকভাঙ্গা কোনও কিছু করার ইচ্ছা কখনও না কখনও জেগেছে। তবে বাধা ধরা চাকরি থেকে বেরিয়ে সেই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস করে উঠতে পারিনি। আর এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, মধ্যবিত্তদের জন্য কম পুঁজিতে শুরু করা চায়ের দোকানের মতো ব্যবসায় প্রথম দিন থেকেই আয় শুরু হওয়ার সুযোগ থাকে। (Viral X Post)
আবার কেউ লিখেছেন, নিজের উপর বিশ্বাস রেখে হিসেব করে ঝুঁকি নিতে পারলে সাফল্য আসতেই পারে। তবে অনেকের মতে, নিরাপদ চাকরির গণ্ডি ছেড়ে বেরিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন, আর সেই সাহসই অনেক সময় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।












