আর মাত্র কদিন বাকি পুজো। মণ্ডপে আবিভূর্তা হবেন মহামায়া। আমরা ছোট থেকেই মা দুর্গার বাহন শ্বেত সিংহ-কেই দেখে আসেছি। কিন্তু আপনি কী জানেন, কেন সিংহবাহিনী দুর্গা সিংহকেই বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন? মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার বাহন হলেন স্বয়ং শ্রীবিষ্ণুরূপী মহাতেজস্বী শ্বেত সিংহ (মহাসিংহ)। কালিকাপুরাণ ও দেবীপুরাণ অনুসারে, দেবীর বাহন এই সিংহ কোনও সাধারণ জীব নয়, বরং সাক্ষাৎ ভগবান শ্রীবিষ্ণুরই একটি রূপান্তর, যাঁর নাম ‘সোমনন্দী’ (durga puja 2026)।
durga puja 2026: কেন সিংহকেই বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন?
সিংহের পিঠে মা দুর্গার অবস্থান তাঁর এই সাহস ও শক্তিকে পূর্ণতা দেয়। হিমালয় রাজ স্বয়ং দেবীকে এই বাহনটি উপহার দিয়েছিলেন। প্রথম দর্শনে যা নেহাতই এক হিংস্র পশুপতি, শাস্ত্রের অন্দরে ঝুঁকলে, সেই সিংহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে দেবসমাজকে অবস্থান করতে দেখা যায়। পুরাণকথা পর্যালোচনা করলে এক অবিশ্বাস্য তথ্য উঠে আসে। বাহন সিংহের গ্রীবায় মধুসূদন বিষ্ণু, মস্তকে স্বয়ং নীলকণ্ঠ শিব, আর ললাটে বিরাজ করছেন দেবী গিরিজা। শুধু তাই নয়, তাঁর বক্ষঃস্থলে স্বয়ং শারদা, কব্জিতে ষড়ানন কার্তিক এবং পার্শ্বদেশে বিরাজমান নাগকুল। কর্ণদ্বয়ে স্থান পেয়েছেন স্বর্গবৈদ্য অশ্বিনীকুমারদ্বয়। দেবীবাহনের এই অভাবনীয় দৈব বিন্যাস যেন সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের এক অদ্ভুত প্রতীক (durga puja 2026)।
শাস্ত্র মতে, এই সিংহ স্বয়ং হরি অর্থাৎ বিষ্ণুরই আর এক রূপ। দেবীর এই আসন মেরুশৃঙ্গের মতো শুভ্র ও অমলিন। যাঁর মধ্যে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব সমবেত হয়েছেন, তিনি কেবল হিংস্র পশু হয়ে থাকেন না, হয়ে ওঠেন পরম পূজনীয় ‘শ্রীসিংহ’। তাই তো দুর্গোৎসবে দেবীর পাশাপাশি এই মহাজাগতিক সিংহের পুজোও বাধ্যতামূলক।













2 thoughts on “মহিষাসুরমর্দিনীর পাশাপাশি ‘শ্রীসিংহ’ কেন পূজিতা হন? জানুন পুরাণের কাহিনী”
Comments are closed.