চলছে রথযাত্রা উৎসব। দাদা বলরাম, বোন সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চেপে মাসির বাড়ি গিয়েছেন জগন্নাথ। উল্টোরথে ফের ফিরবেন নিজ গৃহে। তবে পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দির শুধু রথযাত্রার জন্য নয় বিখ্যাত সেখানকার মহাপ্রসাদের জন্যও। এই মন্দিরে জগন্নাথকে নিবেদিত ৫৬ ভোগের কথা সকলেই জানে। তবে জানেন কি সেই ভোগের মধ্যেই থাকে একটি বিশেষ পানীয়ও। বহু শতাব্দী ধরে ভক্তদের কাছে সেটিও সমান জনপ্রিয়। এই পানীয়র নাম ‘টঙ্কা তোরানি’। (Jagannath Mahaprasad)
বিশ্বাস করা হয়, প্রায় হাজার বছর ধরে জগন্নাথদেবের ভোগের অংশ হিসেবে এই ‘টঙ্কা তোরানি’ পানীয় নিবেদন করা হচ্ছে। আজও সেই প্রাচীন রীতিতেই এটি তৈরি করা হয়, বদল আসেনি প্রস্তুত প্রণালীতেও। রথযাত্রা হোক বা গরমের অন্য কোনও দিন, পুরীতে আসা অসংখ্য ভক্ত প্রবল রোদে দীর্ঘ পথ হেঁটে মন্দিরে পৌঁছন। সেই ক্লান্তি আর তৃষ্ণা মেটাতে মহাপ্রসাদের অংশ হিসেবে দেওয়া হয় টঙ্কা তোরানি। এই পানীয় পান করার পর অনেকেরই মনে হয়, শরীরের ক্লান্তি যেমন কমে, তেমনই মনও শান্ত হয়ে যায়। তাই ভক্তদের কাছে এটি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক।
এই বিশেষ পানীয় তৈরি হয় জগন্নাথদেবের ছাপান্ন ভোগে নিবেদন করা ভাত থেকেই। সেই ভাতের একটি অংশ জল দিয়ে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা হয়। আর স্বাভাবিকভাবে জারণ বা ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে তৈরি হয় টঙ্কা তোরানি। এতে কোনও চিনি বা মিষ্টি দেওয়া হয় না। বরং এর স্বাদে টক ও ঝালের মিশেল থাকে, যা গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখে। (Jagannath Mahaprasad)
রথযাত্রা শেষে মা লক্ষ্মীকে কেন রসগোল্লা খাওয়ান জগন্নাথ? জানুন নীলাদ্রি বিজয়ের পৌরাণিক কাহিনি
শুধু মন্দিরের ভক্তরাই নন, পুরীর সাধারণ মানুষও এই পানীয় পান করেন। এমনকি অনেকেই গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে বাড়িতেও একই পদ্ধতিতে টঙ্কা তোরানি তৈরি করেন। আয়ুর্বেদ ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পানীয় শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেয় না এবং ডিহাইড্রেশন রোধে সাহায্য করে। ফারমেন্টেশনের ফলে এতে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক তৈরি হয়, যা হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতেও এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।
প্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্যগুণ— এই তিনের অনন্য মেলবন্ধনই হলো পুরীর জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদের বিশেষ পানীয় ‘টঙ্কা তোরানি’। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একই স্বাদ ও একই ঐতিহ্য নিয়ে আজও এটি ভক্তদের কাছে সমান জনপ্রিয়। (Jagannath Mahaprasad)












