রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

বিলাসবহুল বাড়ি থেকে দামি গাড়ি, রাতারাতি বদলে গিয়েছিল রামমন্দির অনুদান কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের জীবন

Ayodhya Ram Mandir Case
---Advertisement---

অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিস্ফোরক সব তথ্য। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অভিযুক্তের আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কথা। একসময় যারা মাসে মাত্র কয়েক হাজার টাকা আয় করতেন, রাতারাতি তাদের জীবনযাত্রা যেন আমূল বদলে গেল। কেউ অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি করেছেন বড় বাড়ি, কেউবা আবার কিনেছেন দামি SUV গাড়ি। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছেন আধিকারিকেরা।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে অবিনাশ শুক্লা একসময় অযোধ্যার হনুমান গুফার কাছে পানীয় জল বিক্রি করতেন। পরে তিনি রাম মন্দিরের অনুদান গণনা কেন্দ্রে কাজ পান। বর্তমানে তাঁর অযোধ্যায় একটি বাড়ি রয়েছে। শনিবার রাতে তাঁর ব্যবহৃত একটি মারুতি ব্রেজা গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। (Ayodhya Ram Mandir Case)

অন্য অভিযুক্ত লাভকুশ মিশ্র গত বছরের ১৬ অক্টোবর অযোধ্যার সোহাওয়াল এলাকার বানিপুরে প্রায় ১,০০০ বর্গফুটের একটি প্লট কেনেন। নথিতে জমির মূল্য ৮.৮ লক্ষ টাকা দেখানো হলেও, স্থানীয়দের দাবি ওই এলাকার একই ধরনের জমির বাজারদর ২৪ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। এই তথ্য সামনে আসার পরেই তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন এ বিপুল পরিমাণ টাকা কি করে জোগাড় করলেন লাভকুশ? ইতিমধ্যেই ওই জমির নথি দেখানোর জন্য লাভকুশের স্ত্রীকে নোটিস পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, আর এক অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, আগে গাড়িচালক ছিলেন। তিনিও পরে একটি হোস্টেল নির্মাণ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার বহু আগেই মন্দির ট্রাস্টের একাধিক সদস্য গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন। কিন্তু কেন এই ঘটনা জানার পরেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি মন্দির কর্তৃপক্ষ?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে মে মাসের ঘটনাকে ঘিরে। তদন্তকারীদের দাবি, তখনই এই টাকা তছরুপের প্রমাণ হাতে এলেও মন্দিরের তরফে কোনও FIR দায়ের করা হয়নি। বরং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, অযোধ্যা রাম মন্দিরকে নিয়ে যাতে কোনও কেচ্ছা কেলেঙ্কারির ঘটনা বাইরে চাউর না হয় সেই জন্যই তখন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

ইতিমধ্যে মন্দিরের অনুদানের গণনার দায়িত্বে থাকা ব্যাঙ্ক কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার আগে প্রতিদিন রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। কিন্তু ঘটনা সামনে আসার পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকায়। এই হিসাবের ভিত্তিতেই তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা অনুদান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। (Ayodhya Ram Mandir Case)

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেও মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনকে সন্দেহজনকভাবে নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযোগ, তাঁরা কখনও পকেট, কখনও মোজার মধ্যে টাকা ভরে সাময়িকভাবে মন্দিরের শৌচাগারে রেখে পরে অল্প অল্প করে বাইরে নিয়ে যেতেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী অনুদান গণনার সময় পকেটবিহীন পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সেই বিধি যে একেবারেই মানা হয়নি তা ফুটেজ থেকেই স্পষ্ট।

রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রতিদিন উধাও হয়ে যেত ৬-৮ লক্ষ টাকা?

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ চলাকালীন মন্দিরে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় অনুদানের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ দিনে যেখানে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষের সমাগম হতো, সেখানে ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির ৪৫ দিনের মহাকুম্ভে ব্যস্ততম দিনগুলিতে সেই সংখ্যা বেড়ে ১০ থেকে ১২ লক্ষে পৌঁছায়। তদন্তকারীদের ধারণা, এই সময়েই সবচেয়ে বেশি অনুদান তছরুপ হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ নগদ সামলাতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ট্রাস্টকে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানায়। পরে বারাণসীর একটি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন গণনাকর্মী নিয়োগ করা হয়, যাঁদের অনেককেই ট্রাস্টের কয়েকজন সদস্যের সুপারিশে আনা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

এছাড়া সোনা, রুপো ও গয়নার অনুদানের কোনও সুনির্দিষ্ট হিসাব বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনুদানের পাওয়া সেই সব গয়না সরিয়ে ফেলা ছিল খুবই সহজ। এখন ঠিক কত পরিমাণে সোনা এবং রুপোর গয়না অনুদানের জমা পড়েছিল এবং বর্তমানে কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে সেই হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। (Ayodhya Ram Mandir Case)

সব মিলিয়ে দিন যত এগোচ্ছে ততই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি মামলায় আসছে নয়া মোড়। এই অবস্থায় কবে মামলার নিষ্পত্তি হয় এবং অভিযুক্তরা যথাযথ শাস্তি পায় সেদিকেই নজর দেশবাসীর।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “বিলাসবহুল বাড়ি থেকে দামি গাড়ি, রাতারাতি বদলে গিয়েছিল রামমন্দির অনুদান কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের জীবন”

Leave a Comment