যাঁর ইস্তফার দাবিতে তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। আন্দোলন, মিটিং, মিছিল, বিক্ষোভে ফুটেছে রাজধানী। সেই আঁজ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপও। তারুণ্যের ক্রোধের মুখে পড়েন। গণবিক্ষোভে চাপের মুখে পড়ে CJP-র বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan Resigns)।
Dharmendra Pradhan Resigns: কী লিখলেন ইস্তফাপত্রে?
নিজের চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১০ দিনের চলা আন্দোলনে বিশেষ করে ২০ জুলাই সাংসদ অভিযান ঘিরে যে অশান্তি ছড়িয়েছিল তাঁতে তিনি “গভীরভাবে ব্যথিত” হয়েছেন। ওইদিন সংঘর্ষে ১৮০ জনেরও বেশি ছাত্র ও পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন (Dharmendra Pradhan Resigns)।
তিনি আরও লেখেন, “যন্তর-মন্তর ঘিরে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের সুযোগ কোনও রাষ্ট্র বিরোধী শক্তি এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে না। দেশে যাতে শান্তি বজায় থাকে, রাষ্ট্রের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনও আইনি জটিলতায় না পড়ে। তাঁরা যাতে লেখা পড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে, সবদিক বিবেচনা করে আমি আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফা পত্র পাঠালাম।”
আজই সিজিপির নেতৃত্বে তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা জানিয়েছিল নিট আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তাঁর আগেই প্রায় একমাস ধরে চলা আন্দোলনকে মান্যতা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কে এই ধর্মেন্দ্র প্রধান? তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ই বা কী ছিল? তিনিও এক সময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই সময় পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর শরীরের একাধিক অংশে আঘাত লাগে। এবার সেই ঘটনার ৩০ বছর পার। তিনিই ছাত্রবিক্ষোভের মুখোমুখি হলেন।
পড়াশোনা থেকে রাজনীতি
১৯৬৯ সালের ২৬ জুন ওড়িশার তালচেরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জন্মগ্রহণ করেন। তালচের কলেজ থেকে স্নাতক হন। এরপর তিনি উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন৷ সেখান থেকে তিনি নৃবিজ্ঞান, অর্থাৎ, অ্যানথ্রোপলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাবা ছিলেন দেবেন্দ্র প্রধান, অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ায় সুবাদে ধর্মেন্দ্র প্রধান অল্প বয়সেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ছাত্রজীবনেই তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-তে যোগদান করেন। শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যাতায়াত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে ওড়িশা সচিবালয়ের বাইরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ধর্মেন্দ্র
রাজনীতির শুরু থেকেই নিজের যোগ্যতায় একে একে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে শুরু করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বিজেপির যুব শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অবশেষে বিজেওয়াইএম-এর জাতীয় সভাপতি হন। ২০০০ সালে তিনি প্রথমবার ওড়িশা বিধানসভায় নির্বাচিত হন। রাজ্যের গণ্ডি ছেড়ে জাতীয় রাজনীতিতে উর্ত্তীণ হন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি লোকসভায় সদস্য এবং পরবর্তীকালে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংসদ থেকে মন্ত্রী
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে আরও পোক্ত হন ধর্মেন্দ্র। বর্তমানে ওড়িশার সম্বলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তিনি। একসময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রালয় গুরুত্ব সহকারে সামলেছিলেন। তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী, ইস্পাত মন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে চলতি বছরে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বিতর্কের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভের মুখে পিছু হাঁটেন তিনিও। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ইস্তফা পত্র নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন।












2 thoughts on “ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের, ছাত্ররাই প্রধান, মানল কেন্দ্র”