রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

রেড পান্ডা সংরক্ষণে বড় সাফল্য, গ্যাংটকে মরশুমে ৫ শাবকের জন্ম

Published on: September 25, 2026
---Advertisement---

সিকিমের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় সাফল্য। গ্যাংটকের বুলবুল পাহাড়ে হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে চলতি প্রজনন মরশুমে জন্ম নিয়েছে ৫টি রেড পান্ডা, ২টি হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার এবং ৪টি গোরাল। একসঙ্গে এতগুলি বিরল প্রাণী জন্মে খুশি পার্ক কর্তৃপক্ষ। (Red Panda Conservation)

ছয় রেড পান্ডার জন্ম,বেঁচে ৫

জুন ও জুলাই মাসে তিন দফায় মোট ছয়টি রেড পান্ডা শাবকের জন্ম হয়। তবে লাগাতার বৃষ্টি ও অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে ভাবের কারণে একটি শাবক মারা যায়। বর্তমানে পাঁচটি শাবকই সুস্থ রয়েছে।পার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জন্মের পর প্রথম দুই মাস রেড পান্ডা শাবকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় তাদের বেঁচে থাকার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই চিকিৎসক ও কর্মীদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল শাবকদের। ‘সংরু’ ও ‘পুণ্ডি’ নামে রেড পান্ডা দম্পতি তাদের শাবকদের ভেজা পরিবেশ থেকে বাঁচাতে বারবার নিরাপদ ও শুকনো জায়গায় সরিয়ে নেয়। পার্ক কর্মীরাও তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। (Red Panda Conservation)

রোগের ধাক্কা কাটিয়ে ফের প্রজনন

রেড পান্ডা সংরক্ষণ ও প্রজনন কর্মসূচি এই পার্কে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ক্যানাইন ডিস্টেম্পার রোগের সংক্রমণে ১২টি রেড পান্ডা মারা যায়। এরপর কয়েক বছর প্রজনন কর্মসূচি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ বিরতির পর নতুন পুরুষ রেড পান্ডা আনার মাধ্যমে ফের প্রজনন কর্মসূচি শুরু করা হয়। সেই উদ্যোগের ফলেই ধীরে ধীরে পান্ডার সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পার্কে ১৩টি রেড পান্ডা রয়েছে।

ব্ল্যাক বিয়ার ও গোরালেরও নতুন সদস্য

শুধু রেড পান্ডাই নয়, পার্কে জন্ম নিয়েছে দুটি হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার শাবকও। পাশাপাশি চারটি নতুন গোরালের জন্ম হয়েছে। গত বছর পার্ক থেকে ছয়টি পুরুষ গোরালকে সফলভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নতুন শাবকদের জন্ম ভবিষ্যতে এই সংরক্ষণ কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। (Red Panda Conservation)

বাড়ানো হবে প্রজনন কেন্দ্র

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রজনন কেন্দ্র আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শনার্থীদের এলাকা থেকে প্রজনন কেন্দ্রটি দূরে রাখা হয়েছে, যাতে প্রাণীদের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রজনন প্রক্রিয়ায় কোনও সমস্যা না হয়। এছাড়াও রয়েছে ‘My Child From Wild’ নামে দত্তক কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যক্তি বা সংস্থা পার্কের প্রাণী দত্তক নিতে পারেন। নবজাতক পাঁচটি রেড পান্ডা, দুটি ব্ল্যাক বিয়ার এবং চারটি গোরালকেও এই কর্মসূচির আওতায় দত্তক নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। (Red Panda Conservation)

পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রজনন সাফল্য শুধু পার্কের নয়, সিকিমের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

1 thought on “রেড পান্ডা সংরক্ষণে বড় সাফল্য, গ্যাংটকে মরশুমে ৫ শাবকের জন্ম”

Comments are closed.