শিল্পপার্ক তৈরি থেকে ডেটা সেন্টার, জমির ছাড়পত্র থেকে পরিবেশগত অনুমোদন—(Tamil Nadu Bribery Scandal) তামিলনাড়ুতে একাধিক বড় প্রকল্পের ছাড়পত্র পেতে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠল মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। ২০২১-২৬ সালের DMK সরকারের আমলে এই আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। নথি, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন ও বয়ানের ভিত্তিতে এই অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ফ্রি প্রেস জার্নাল (FPJ)।
Table of Contents
ঘুষের নির্দিষ্ট ‘রেট কার্ড’
ইডির হাতে আসা নথি অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি বড় শিল্পপার্ক ও ডেটা সেন্টার প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিক দফায় ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। (Tamil Nadu Bribery Scandal) আবাসন ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রীর জন্য প্রতি বর্গফুটে ২৭ টাকা ঘুষের নির্দিষ্ট হার থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সরকারি নির্দেশ (GO) আদায়ে ১.০১ কোটি টাকা এবং জমির ঊর্ধ্বসীমা আইনে ছাড় পেতে রাজস্বমন্ত্রীকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খাল ঘোরানো থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র – সর্বত্র টাকা
প্রকল্পের জমি থেকে খাল সরাতে ৩.৫ কোটি টাকা, নগর পরিকল্পনা দফতরের মন্ত্রী ও আধিকারিকদের ২-২.৫ কোটি টাকা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য প্রতি বর্গফুটে ৯ টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিককে ১০ লক্ষ টাকা, দমকলের অনাপত্তিপত্রের (NOC) জন্য ৪ লক্ষ টাকা এবং কৃষিজমি সংক্রান্ত ছাড়পত্রের জন্যও ঘুষ দেওয়ার কথা নথিতে রয়েছে। (Tamil Nadu Bribery Scandal) ২০২৪ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সংস্থার ১,৬০০ কোটি টাকার ডেটা সেন্টার প্রকল্পে ১.৮৯ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। চেন্নাইয়ের আম্বাত্তুরে ৫.৩৬ লক্ষ বর্গফুট জমিতে ডেটা সেন্টার তৈরির অনুমোদনের জন্য বিদেশি সংস্থার ১.৪৪ কোটি টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মাঠে ছ’ফুট ঘাস, আবর্জনার স্তূপ, আকাশ ছোঁয়া ভাড়া ১.২৭ লক্ষ; বিতর্কে দিল্লির নতুন বিক্ষোভস্থল
ফাইল আটকে বাড়তি ঘুষ, কালেক্টরকেও টাকা
(Tamil Nadu Bribery Scandal) ২০২৩ সালে ৩.৮৭ লক্ষ বর্গফুটের একটি প্রকল্পে প্রতি বর্গফুটে অতিরিক্ত ২০ টাকা দাবি করে ফাইল আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ১.২৭ কোটি টাকা দেওয়ার কথা নথিতে রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শিল্পপার্কের জমির পাট্টা সমস্যা মেটাতে এক জেলাশাসককে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যুৎ, পূর্ত, DTCP ও CMDA-র আধিকারিকদের অনুমোদনের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে ২০২৪ সালের নথিতে।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নগদ লেনদেনের অভিযোগ
বিদেশি সংস্থাগুলি চেন্নাই-সহ বিভিন্ন এলাকার পরামর্শদাতাদের মাধ্যমে টাকা পাঠাত বলে অভিযোগ। পরে মধ্যস্থতাকারীরা নগদে মন্ত্রী ও আধিকারিকদের টাকা পৌঁছে দিতেন। (Tamil Nadu Bribery Scandal) ‘সুপ্রিম অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত এক মধ্যস্থতাকারীর উল্লেখও রয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে চেন্নাইয়ের এক পরিচিত নির্মাণ সংস্থার রেস্তরাঁ-বার চালুর জন্য নিষেধাজ্ঞা ও আবগারি মন্ত্রীকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং পুলিশকর্মীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার প্রাক্তন মন্ত্রীর
DMK সূত্রে জানানো হয়েছে, ইডির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে। তৎকালীন আবাসনমন্ত্রী এস মুথুস্বামী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, সমস্ত অনুমোদন নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। (Tamil Nadu Bribery Scandal) তৎকালীন CMDA-র দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পি কে শেখর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
উল্লেখ্য, এই সমস্ত তথ্য ও অভিযোগ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগগুলি প্রমাণিত অপরাধ নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় আদালতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাকি।
কঠিন সময়ে ফের বাংলাদেশের পাশে ভারত, ২০০টি ট্রেন পাঠাচ্ছে কেন্দ্র












1 thought on “এই রাজ্যে ঘুষের ‘রেট কার্ড’, প্রাক্তন মন্ত্রী-আমলাদের দুর্নীতি প্রকাশ্যে”
Comments are closed.