নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে বিহারে গণ্ডক নদীতে হঠাৎ জলপ্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবল জলরাশি বিহারের উপর দিয়েও বইছে। তবুও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বিহার । সৌজন্যে গণ্ডক নদীর উপরে থাকা ৬০ বছরের পুরনো ব্যারেজ। কীভাবে বিহারকে বন্যার হাত থেকে বাঁচালো ওই ব্যারেজ ? ১৯৬৯ সালে বিহারের বাল্মীকিনগরে তৈরি হয়েছিল ভারত-নেপাল সীমান্তের গণ্ডক ব্যারেজ। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর এই বাঁধই শক্তিশালী ঢাল হয়ে বিহারকে বন্যার হাত থেকে বাঁচিয়েছে (Gandak Barrage)।
Gandak Barrage: বন্যার হাত থেকে কীভাবে বাঁচলো বিহার?
নেপালের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীতে বিধ্বংসী রূপ নেয় হড়পা বান। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় জল-কাদার স্রোত। সেই জলই ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করে গণ্ডক নদীতে জলস্তর বাড়িয়ে দেয়। এই ব্যারেজ সেই প্রবল জলরাশিকে আটকে দেয়। নদীর জলস্তর বাড়ায় ব্যারেজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়। নেপাল থেকে আসা প্রায় ১.৫ লক্ষ কিউসেক জল ক্রমশ কৌশলগতভাবে বের করে দেওয়া হয়। ফলে নদীর বাঁধগুলির উপর চাপ কম পড়ে। নীচু এলাকা গুলিতে বেশকিছু জায়গায় প্লাবিত হলেও পরে সেই জল নেমেও যায় (Gandak Barrage)।
৬০ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক ব্যারেজ আজও পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর-সহ বিহারের আট জেলাকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে সুরক্ষার ঢাল হিসাবে কাজ করছে। নেপালের বন্যার জল কমার সঙ্গে সঙ্গে গণ্ডক নদীর জলপ্রবাহও কমতে শুরু করে। ফলে আপাতত বিহারে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কমেছে।
১৯৫৯ সালের ভারত-নেপাল গণ্ডক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ১৯৬৯ সালে এই ব্যারেজটি নির্মাণ হয়। তবে থেকে এই ব্যারেজটি বন্যার হাত থেকে বিহারকে বাঁচাচ্ছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। নীচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কায় এনডিআরএফ (NDRF) ও এসএসবি (SSB) মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে জলের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।












1 thought on “৬০ বছরের পুরনো ব্যারেজ, বিহারকে কীভাবে বন্যার হাত থেকে বাঁচালো?”