পনির দিয়ে তৈরি খাবার ভারতীয়দের অত্যন্ত পছন্দের। রেস্তোরাঁয় পনির টিক্কা, শাহী পনির বা পিৎজা অর্ডার করলেও আমরা ধরে নিই, খাবারে দুধের তৈরি আসল পনিরই রয়েছে। কিন্তু সবসময় তা নাও হতে পারে। সম্প্রতি অ্যানালগ পনির ও অন্যান্য অ্যানালগ ডেয়ারি পণ্য নিয়ে Zomatoর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩১ অগস্ট থেকে Zomato জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে অ্যানালগ ডেয়ারি দিয়ে তৈরি খাবার রাখা যাবে না। রেস্তোরাঁগুলিকে আসল ডেয়ারি পণ্য ব্যবহার করতে হবে, নয়তো সংশ্লিষ্ট খাবার মেনু থেকে সরাতে হবে।
Zomato Analogue Paneer: কী এই অ্যানালগ পনির?
সহজ কথায়, দুধের পনিরের মতো দেখতে, কিন্তু অন্য উপাদান দিয়ে তৈরি পনিরের বিকল্পকে অ্যানালগ পনির বলা হয়। সাধারণ ডেয়ারি পনির যেখানে দুধ থেকে তৈরি হয়, সেখানে অ্যানালগ পনিরে ব্যবহার করা হতে পারে পাম অয়েল বা অন্য উদ্ভিজ্জ ফ্যাট, স্টার্চ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ইমালসিফায়ার, স্ট্যাবিলাইজার এবং বিভিন্ন অ্যাডিটিভ। এসব উপাদান মিশিয়ে পনিরের মতো স্বাদ, গঠন, রং তৈরি করা হয়। ফলে প্লেটে দেখে অনেক সময় আসল পনির আর অ্যানালগ পনিরের পার্থক্য বোঝা কঠিন।
কেন ব্যবহার করা হয়, আর সমস্যা কোথায়?
অ্যানালগ পনির ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো খরচ কমানো। অনেক ক্ষেত্রে এটি আসল ডেয়ারি পনিরের তুলনায় সস্তা এবং তুলনামূলকভাবে বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। ফলে রেস্তোরাঁয় খাবারের উৎপাদন খরচ কমাতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে অ্যানালগ পনির মানেই বিষাক্ত—এমনটা বলা ঠিক নয়। উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকা মানেই কোনও খাবার অনিরাপদ নয়। আসল সমস্যা হলো, এর পুষ্টিগুণ সাধারণ পনিরের মতো নয় এবং কী ধরনের ফ্যাট, প্রোটিন ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপর এর গুণমান নির্ভর করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত উপাদান বা নিম্নমানের ফ্যাট থাকলে নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গ্রাহককে সঠিক তথ্য দেওয়া। কেউ যদি দুধের পনির ভেবে অ্যানালগ পনির খান, তাহলে তিনি যে পুষ্টি আশা করছেন, তা নাও পেতে পারেন। অ্যালার্জি, খাদ্যাভ্যাস বা পুষ্টির প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। (Zomato Analogue Paneer)
নেপালে বিপর্যয়, উত্তরপ্রদেশে ভেসে এলো ২১ দেহ!
Zomatoর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Zomato জানিয়েছে, যেসব রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে, তাদের সেই খাবার প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলিকে সরবরাহকারীর লেবেল ও উপাদানের তালিকাও যাচাই করতে বলা হয়েছে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর তালিকাও সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু ‘নকল পনির’ নিয়ে নয়। আসল প্রশ্ন হল—গ্রাহক যে খাবার কিনছেন, সেটিতে ঠিক কী ব্যবহার করা হয়েছে, তা তিনি জানছেন কি না। তাই বাইরে পনিরের কোনও খাবার খাওয়ার সময় বা প্যাকেটজাত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।












